প্রায় অচেতন বা অর্ধচেতনভাবে অসুস্থ অবস্থায় উপাচার্যের স্বাক্ষর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যাবলী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক না হওয়ায় উক্ত সময়ের আদেশসমূহ স্থগিত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রেজারার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ড.কামালউদ্দীন আহমদ বরাবর লিখিত এক চিঠি পাঠিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে উপাচার্য তিনটি ফাইলে স্বাক্ষর করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মহোদয়ের নিকট থেকে শিক্ষক সমিতি জানতে পেরেছে। উপাচার্যের কন্যার পরামর্শে ফাইল উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। খসড়া ফাইলে উপাচার্যের স্বাক্ষর গ্রহণের সময়ও রেজিস্ট্রার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন না। বেসরকারি হাসপাতাল বিআরবি ও উপাচার্যের পরিবার সূত্রে আমরা অবগত হই যে উপাচার্য স্যার গুরুতর অসুস্থ এবং সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে বাসায় না গিয়ে সরাসরি বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে উপাচার্য স্যারকে এইচডিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এইচডিইউতে অবস্থানকালীন অধিকাংশ সময় স্যারকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে রাখা হয় বলে হাসপাতাল এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে। কাজেই উপাচার্যের অধিকাংশ সময় ঘুমের ঘোরে কাটে। জানা গেছে ফাইল পড়ে স্বাক্ষর করার অবস্থা যখন তাঁর নাই তখন তাঁকে দিয়ে যে সকল ফাইলের অনুমোদন নেয়া হয়েছে তা নিয়মানুযায়ী আইন সম্মত হয়নি।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে শিক্ষক সমিতি খসড়ায় প্রদেয় উপাচার্য স্যারের স্বাক্ষর দেখতে চান। খসড়ায় প্রদেয় স্বাক্ষর দেখে প্রতীয়মান হয় যে ফাইলের খসড়ায় যে স্বাক্ষর দেয়া হয়েছে তা উপাচার্য স্যারের স্বাক্ষরের সাথে মিলে না। এখানে বিষয়টিকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। প্রথমত স্যারের স্বাক্ষর কেউ নকল করার চেষ্টা করা এবং দ্বিতীয়ত অর্ধচেতন বা অচেতন অবস্থায় স্বাক্ষর নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা। এহেন পরিস্থিতিতে বিষয়টি তদন্ত হওয়া জরুরী এবং তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তি ও তা বাস্তবায়ন করার আগ পর্যন্ত বর্ণিত অসুস্থতাজনিত অচেত বা অর্ধচেতন কালীন সময়ে স্বাক্ষরকৃত সকল অনুমোদন বা অফিস আদেশ স্থগিত করার অনুরোধ করছি।
তাসদিকুল হাসান, জাগো২৪.নেট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাল থেকে 



















