গাইবান্ধায় উদ্যোক্তার পরিচিতি বাড়ানো ও নতুন প্রজন্মকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার বার্তা পৌঁছাতে গাইবান্ধা দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রার পণ্য মেলা।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) দিনভর অগ্রযাত্রা’ সংগঠনের আয়োজনে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ চত্তরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমান ও গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকছুদার রহমান শাহান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- গাইবান্ধা সরকারি কলেজের উপাধাক্ষ্য আব্দুর রশীদ, উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রা’র উপদেষ্টা শাহানা ইয়াসমিন লাকী, চেম্বার অব কমার্স সিনিয়র সহ সভাপতি তৌহিদুর রহমান মিলন, ইয়েস বিডির পরিচালক তাসাদ্দুক হোসেন, সাংবাদিক সঞ্জয় সাহা, কায়সার প্লাবন, সালাউদ্দিন কাশেম, উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রার ফাউন্ডার ও শারমিন শাহান, রাহাতুল আফকা রিফাত, এডমিন ফরিদা পারভীন, ফাহমিদা কাকুলি, শাহানা ইসলাম লাকী প্রমুখ।
পণ্য মেলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি শাল, থ্রিপিস, অন পিস, টু পিস, শাল, বিছানার চাদর, রাজশাহী সিল্ক, ডালের বড়ি, আচার, কেক, পুডিং, চাপাইনবাবগঞ্জ এর কালাই রুটিসহ বিভিন্ন রকম পণ্যর মোট ৩২ টি ষ্টল প্রদর্শন করা হয়। এতে নতুন-পুরাতন মিলে মোট অর্ধশতাধিক নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা অংশ গ্রহণ করেন।
কামনা রানী বর্মন নামে ক্রেতা জানান- আমরা অনলাইনে কেনাকাটা করি। এখন আমরা অফলাইনে অর্থাৎ মেলায় কেনাকাটা করছি। আমরা অনেক শিক্ষক মিলে এসেছি কেনাকাটা করতে। মেলায় কেনাকাটায় সুবিধা হয়। দেখেশুনে পছন্দমতো নিতে পারি। যেসব পণ্য আমরা মার্কেটে পাই না সে সব পন্য নারী উদ্যোক্তাদের কাছে পাই।
শারমিন আক্তার নামে এক ক্রেতা জানান- মেলার উপকারিতা রয়েছে। মেলায় গেলে পরিচিত ও আপনজনদের সাথে দেখা হয়। মেলায় অনেক কিছু চোখে পড়লে কিনতে পারি। আমার বান্ধবী রনি দোকান দিয়েছে। তার কাছ থেকে আমরা বান্ধবীরা অনেক কিছু কেনাকাটা করি। বান্ধবীর দোকান থেকে বড়াই এর আচার কিনলাম।
কল্পতরু বুটিক হাউসের পরিচালক রনী চাকী জানান- গাইবান্ধায় যত নারী উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের মধ্যে একটা পরিচিতি বন্ধন তৈরি করার জন্য এই মেলা। আমরা কতজন নারী উদ্যোক্তা রয়েছি, কি কি নিয়ে কাজ করছি। কোথা থেকে কাজ করছি সেজন্য আজকের এই আয়োজন। এখানে শাল, থ্রিপিছ, অনপিস, টু পিস,রাজশাহী সিল্ক,শাল, ডালের বড়ি, আচার এসব পাওয়া যায় ও অনলাইনে বিক্রি করি।
মৌ কেক সত্বাধিকারী জাসিন বলেন- আমি বেকিং আইটেম এর কাজ করি। শীতের সিজিনে পিঠা, পায়েস,পিজ্জা তৈরি করি। সংসারের বাহিরে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এই মেলা করি। আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যাদের নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই তারা মেলার মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিচিত করতে তুলে ধরার চেষ্টা করি যে বাসা থেকে কিছু একটা করি।
মেহুলী বুটিক এর পরিচালক শারমিন সিমু জানান- হাতের কাজের যাবতীয় পোশাক শাড়ি থ্রিপিস, শ্রীমঙ্গল এর চা সহ বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করি। আমরা ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করি। পরিচিতি বাড়াতে এই মেলা। চাকরির পিছনে না ছুটে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হবার মেসেস পৌছে দিতে এই মেলার আহবান।
গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর খলিলুর রহমান বলেন- কলেজে ১৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে সবাই সরকারি চাকুরী পাবেনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যদি দিনের বেলায় কলেজে বেগুনি, চপ বিক্রি করত তাহলে তাদের আর্থিক দৈন্যতা কমে যাবে। শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট ক্ষুদ্র পরিসর মেলায় অংশ গ্রহন এর মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা এই মেলার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হবে। অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, সবার সরকারি চাকুরী হয়না, এদের কারও বাহিরে যেতে হবে অথবা নিজেদেরকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হতে হবে। কাজ না থাকলে বেকাররা মাদকাসক্তি ও জুয়ায় আসক্ত হয়। এসব থেকে রক্ষার জন্য সবাইকে এই কাজে এগিয়ে আসা উচিৎ।
সঞ্জয় সাহা, জাগো২৪.নেট 



















