লালমনিরহাটর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টায় সরকারি হাইস্কুল খেলার মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) আফরোজা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক, সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন।
অপর দিকে লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বিকাল ৩ ঘটিকায় লালমনিরহাট রেল শ্রমিক লীগ কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু পরিষদ লালমনিরহাট জেলা শাখা ও রেল শ্রমিক লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদ মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান।
এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী বেগম বিউটি, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান আলী, রেল শ্রমিক লীগের সভাপতি সফিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক, সমন্বিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মজিবর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম তপনসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও রেল শ্রমিক লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের এই দিনে লালমনিরহাট জেলা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দখল মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে মুক্তিযোদ্ধারা লালমনিরহাট শহর ঘিরে ফেললে অবস্থা বেগতিক দেখে ৬ ডিসেম্বর ভোর ৬ টায় লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাক সেনা, রাজাকার আলবদর ও তাদের দোসর অবাঙ্গালীরা দুটি স্পেশাল ট্রেনে করে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে পালিয়ে যায়। তিস্তা নদী পার হওয়ার পরে পাক সেনারা তিস্তা রেল সেতুতে বোমা বর্ষণ করে সেতুর ক্ষতি সাধন করে। লালমনিরহাট শত্রুমুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিক থেকে লোকজন ছুটে আসতে থাকে শহরের দিকে। বিভিন্ন জায়গায় উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। সন্ধ্যার মধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড় এলাকায় লোকে পূর্ণ হয়ে যায়। শহরের বিভিন্ন সড়কে বের হয় আনন্দ মিছিল। স্বাধীনতার শ্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে শহর ও আশপাশের গ্রাম। বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো মানুষ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিয়ে ও বিজয় পতাকা নিয়ে ঢুকে পড়ে শহরে। মিলিটারি ফোর্স, সশস্ত্র গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতাকামী মানুষদের নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন।
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 



















