রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোট সেন্টারোত ঠেলাঠেলি নাই বাহে

গাইবান্ধা বয়স্ক আলমগীর হোসেন। নাতির হাত ধরে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। এখানে ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। ফাঁকা কক্ষে ভোট দিয়ে মহাখুশি হয়ে তিনি বলেন, ও বাহে সাংবাদিকের বেটা। এবার ভোট দিতে নাইনও নাই, ঠেলাঠেলিও নাই। ফাঁকা রুমোত একলায় ভোট দিনু বাহে।

রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে গাইবান্ধ-৩ আসনের সাদুল্লাপুরের মন্দুযার মতিউন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্ত্রে ভোট দিয়ে বৃদ্ধা আলমগীর হোসেন এ অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত গাইবান্ধা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। ভোটারদের মাঝে তেমন নেই উৎসাহ-উদ্দীপনা। যার কারণে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও অলস সময় পার করছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোন বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া য়ায়নি।

জানা যায়, ওই ৫টি আসন থেকে ৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০ জন, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৫ জন, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনে ১১ জন, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ৩ জন ও গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে গাইবান্ধা-৫ আসনের লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী আতাউর রহমান সম্প্রতি নির্বাচন থেকে সরে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহীনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে তৎপর রয়েছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে তাদের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই বাহিনীর বাইরের পুলিশ সদস্যরা মোবাইল ফোর্স-স্ট্রাইকিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, জেলার ৫ টি আসনে ২০ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৭টি ভোটারে মধ্যে গাইবান্ধা-১ আসনে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫১, নারী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২ ও তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। গাইবান্ধা-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৭ হাজার ২১৩, নারী ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫০ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯, নারী ২ লাখ ৪২ হাজার ৩০ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৭ জন। গাইবান্ধা-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৫, নারী ২ লাখ ২২ হাজার ৯৫৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন। গাইবান্ধা-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৫, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ২৬৭ ও তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব বলেন, গাইবান্ধার ৫টি আসনে ৬৪৬ কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪২৫টি ভোটক্ষক রয়েছে। এসব কক্ষে ওইসব ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন।

গাইবান্ধা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সম্মানিত নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।

ভোট সেন্টারোত ঠেলাঠেলি নাই বাহে

প্রকাশের সময়: ০৩:২২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৪

গাইবান্ধা বয়স্ক আলমগীর হোসেন। নাতির হাত ধরে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। এখানে ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। ফাঁকা কক্ষে ভোট দিয়ে মহাখুশি হয়ে তিনি বলেন, ও বাহে সাংবাদিকের বেটা। এবার ভোট দিতে নাইনও নাই, ঠেলাঠেলিও নাই। ফাঁকা রুমোত একলায় ভোট দিনু বাহে।

রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে গাইবান্ধ-৩ আসনের সাদুল্লাপুরের মন্দুযার মতিউন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্ত্রে ভোট দিয়ে বৃদ্ধা আলমগীর হোসেন এ অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত গাইবান্ধা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। ভোটারদের মাঝে তেমন নেই উৎসাহ-উদ্দীপনা। যার কারণে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও অলস সময় পার করছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোন বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া য়ায়নি।

জানা যায়, ওই ৫টি আসন থেকে ৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০ জন, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৫ জন, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ি) আসনে ১১ জন, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ৩ জন ও গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে গাইবান্ধা-৫ আসনের লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী আতাউর রহমান সম্প্রতি নির্বাচন থেকে সরে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহীনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে তৎপর রয়েছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে তাদের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই বাহিনীর বাইরের পুলিশ সদস্যরা মোবাইল ফোর্স-স্ট্রাইকিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, জেলার ৫ টি আসনে ২০ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৭টি ভোটারে মধ্যে গাইবান্ধা-১ আসনে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫১, নারী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২ ও তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। গাইবান্ধা-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৭ হাজার ২১৩, নারী ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫০ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯, নারী ২ লাখ ৪২ হাজার ৩০ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৭ জন। গাইবান্ধা-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৫, নারী ২ লাখ ২২ হাজার ৯৫৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন। গাইবান্ধা-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৫, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ২৬৭ ও তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব বলেন, গাইবান্ধার ৫টি আসনে ৬৪৬ কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪২৫টি ভোটক্ষক রয়েছে। এসব কক্ষে ওইসব ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন।

গাইবান্ধা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সম্মানিত নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে। অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।