লালমনিরহাটে কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশায় দেখা মিলছে না সূর্যের। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় উত্তরের সীমান্তবর্তী এই জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিদারুণ কষ্টে রয়েছেন তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। উত্তরের এই জেলা় হিমালয় পর্বতের কাছে হওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পরই বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ছে। আর দুপুরে বইছে হিমেল হাওয়া। ছিন্নমূল অসহায় হতদরিদ্রদের সীমাহীন কষ্টে দিন কাটছে।
প্রচণ্ড ঠান্ডায় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ঘর হতে বাইরে যেতে পারছেন না। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে আগুনের তাপ দিয়ে শীত নিবারণ করছেন। শীতার্তরা তাকিয়ে আছেন সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতার দিকে।
এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লালমনিরহাটে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। আর এসব রোগের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। শহর এলাকার চেয়ে তিস্তার পাড়ে প্রচুর শীত। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালসহ পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ডায়েরিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে মানুষ। এদের মধ্যে শিশুরোগীর সংখ্যা বেশি।
তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। চরম বিপাকে রয়েছেন শ্রমজীবী, ছিন্নমূল ও তিস্তা-ধরলা নদী পাড়ের হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ। প্রচণ্ড শীতে চরম বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। ঠান্ডা নিবারণে শীতবস্ত্র নেই তাদের। ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছেন তারা। সকালে আগুনে শরীর গরম করে অনেকে কাজে বের হচ্ছেন।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পযর্বেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, তাপমাত্রা ১১.৫ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত এক সাপ্তাহে থেকে এ অঞ্চলে সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে ঠান্ডার প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। সন্ধ্যা থেকে কুয়াশা পড়তে শুরু করে এবং সকাল বেলা চারদিক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যায়।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দিতে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত নিউমোনিয়া আক্রান্ত বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছেন। লালমনিরহাট স্বাস্থ্যবিভাগ শীতজনিত রোগীদের সেবা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, জেলায় শীত বস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জেলার মানুষ শীতে যেন কষ্ট না পায় সে দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। প্রত্যেকটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।
শাহজাহান সাজু , ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 



















