রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুয়াশার দাপটে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। স্বপ্নের এই ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা

তোফায়েল হোসেন জাকির: শস্য ভাণ্ডার জেলা হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা জেলা। এ এলাকায় চলতি রবি মৌসুমে আলুসহ ব্যাপক পরিমাণ শাক-সবজি আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া শুরু হয়েছে ইরি-বোরো চারা রোপণের কাজ। এরই মধ্যে স্থায়ী শৈত্যপ্রবাহ ও কয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরপ্রভাবে রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। স্বপ্নের এই ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

সম্প্রতি জেলার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকের মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, রবিশস্য চাষাবাদের দৃশ্য। চারদিকে নজর কাড়ছে গোল আলু, মিষ্টি আলু, কপি, বেগুন, টমেটো, সিমসহ আরও নানা ধরণের শাক-সবজি। একই সঙ্গে শীতকে উপেক্ষা করে কাদা মাটিতে রোপণ করা হচ্ছে বোরো ধানের চারা। এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড শীতে ঘন কুয়াশার শিশির ভেজা ফসলে বেড়েছে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, এ জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ফসলের ওপর নির্ভশীল। এ ধারা অব্যাহত রেখে চলতি রবি মৌসুমে গোল আলু ১০ হাজার, ৩১৭ হেক্টর, মিষ্ট আলু ৬১৫ হেক্টর ও শাক-সবজি ৯ হাজার ৮২৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগ অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ভুট্রা ১৭ হাজার ৪৫ হেক্টর ও ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বোরো চারা চাহিদা পূরণে বীজতলা করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫ হেক্টর।

এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে, গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। দিনভর সূর্য্যের মূখ দেখা মিলছে না। চারদিকে ঘন কুয়াশার আচ্ছন্ন। সেই সঙ্গে উত্তরের মৃদু হিমেল হাওয়া বইছে। স্থায়ী শৈত্যপ্রবাহের কারণে অন্যান্য ফসল ক্ষেতসহ ওইসব রবিশস্যের বিশেষ করে আলু চাষিরা চরম বেকায়দা রয়েছে। টানা ঘন কুয়াশার কারণে আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ সংক্রামণ দেখা দিয়েছে। এতে করে আলু ফসল উৎপাদনে মারাত্নকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আর এই সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ফসল রক্ষায় কৃষি বিভাগের তেমন কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ।

ধাপেরহাটের হিংগার পাড়া গ্রামের কৃষক আলম মিয়া জাগো২৪.নেট-কে বলেন, অধিক লাভের আশায় এবছর ৭৫ শতক জমিতে আলু লাগানো হয়েছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশার কারণে ক্ষেতে পোকা-মাকড় আক্রমণসহ গাছ পচন রোগ দেখা দিয়েছে। তাই কিটনাশকের দোকানির পরামর্শে ওষুধ স্প্রে করছি।

নজরুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক জানান, আলুসহ বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদ করেছেন। ভালো ফলনও নেওয়া শুরু করছিলেন। এরই মধ্যে শৈত্যপ্রবাহের কারণে নানা রোগ-বালাইয়ে উৎপাদন কমেছে । এতে করে রবিশস্যে ক্ষতি হচ্ছে তার।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিমুল হাসান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, শৈত্যপ্রবাহে কৃষকের যেন রবিশস্যের ক্ষতি না হয়, সেব্যাপারে তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আলু ক্ষেতে সংক্রমণ ঠেকাতে মেনকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে সাতদিন পর পর স্প্রে করতে হবে। সেই সাথে জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, শৈত্যপ্রবাহ ও কয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় রবিশস্যে নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ নিয়ে কৃষক সচেতনতায় ও পরামর্শ প্রদানে কৃষিমাঠে কাজ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

কুয়াশার দাপটে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

প্রকাশের সময়: ০৯:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। স্বপ্নের এই ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা

তোফায়েল হোসেন জাকির: শস্য ভাণ্ডার জেলা হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা জেলা। এ এলাকায় চলতি রবি মৌসুমে আলুসহ ব্যাপক পরিমাণ শাক-সবজি আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া শুরু হয়েছে ইরি-বোরো চারা রোপণের কাজ। এরই মধ্যে স্থায়ী শৈত্যপ্রবাহ ও কয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরপ্রভাবে রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। স্বপ্নের এই ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

সম্প্রতি জেলার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকের মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, রবিশস্য চাষাবাদের দৃশ্য। চারদিকে নজর কাড়ছে গোল আলু, মিষ্টি আলু, কপি, বেগুন, টমেটো, সিমসহ আরও নানা ধরণের শাক-সবজি। একই সঙ্গে শীতকে উপেক্ষা করে কাদা মাটিতে রোপণ করা হচ্ছে বোরো ধানের চারা। এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড শীতে ঘন কুয়াশার শিশির ভেজা ফসলে বেড়েছে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, এ জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ফসলের ওপর নির্ভশীল। এ ধারা অব্যাহত রেখে চলতি রবি মৌসুমে গোল আলু ১০ হাজার, ৩১৭ হেক্টর, মিষ্ট আলু ৬১৫ হেক্টর ও শাক-সবজি ৯ হাজার ৮২৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগ অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ভুট্রা ১৭ হাজার ৪৫ হেক্টর ও ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বোরো চারা চাহিদা পূরণে বীজতলা করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫ হেক্টর।

এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে, গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। দিনভর সূর্য্যের মূখ দেখা মিলছে না। চারদিকে ঘন কুয়াশার আচ্ছন্ন। সেই সঙ্গে উত্তরের মৃদু হিমেল হাওয়া বইছে। স্থায়ী শৈত্যপ্রবাহের কারণে অন্যান্য ফসল ক্ষেতসহ ওইসব রবিশস্যের বিশেষ করে আলু চাষিরা চরম বেকায়দা রয়েছে। টানা ঘন কুয়াশার কারণে আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ সংক্রামণ দেখা দিয়েছে। এতে করে আলু ফসল উৎপাদনে মারাত্নকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আর এই সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ ফসল রক্ষায় কৃষি বিভাগের তেমন কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ।

ধাপেরহাটের হিংগার পাড়া গ্রামের কৃষক আলম মিয়া জাগো২৪.নেট-কে বলেন, অধিক লাভের আশায় এবছর ৭৫ শতক জমিতে আলু লাগানো হয়েছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশার কারণে ক্ষেতে পোকা-মাকড় আক্রমণসহ গাছ পচন রোগ দেখা দিয়েছে। তাই কিটনাশকের দোকানির পরামর্শে ওষুধ স্প্রে করছি।

নজরুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক জানান, আলুসহ বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদ করেছেন। ভালো ফলনও নেওয়া শুরু করছিলেন। এরই মধ্যে শৈত্যপ্রবাহের কারণে নানা রোগ-বালাইয়ে উৎপাদন কমেছে । এতে করে রবিশস্যে ক্ষতি হচ্ছে তার।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিমুল হাসান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, শৈত্যপ্রবাহে কৃষকের যেন রবিশস্যের ক্ষতি না হয়, সেব্যাপারে তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আলু ক্ষেতে সংক্রমণ ঠেকাতে মেনকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে সাতদিন পর পর স্প্রে করতে হবে। সেই সাথে জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, শৈত্যপ্রবাহ ও কয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় রবিশস্যে নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ নিয়ে কৃষক সচেতনতায় ও পরামর্শ প্রদানে কৃষিমাঠে কাজ করা হচ্ছে।