নদী রক্ষায় খনন করা হয় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের নলেয়া নদী। এরই মধ্যে সেই নদী পার কেটে মাটি বানিজ্যের মহোৎসবে মেতেছে রাব্বী মিয়া নামের এক অসাধু ব্যবসায়ী। ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে এইসব মাটি বহন করায় নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট ও পরিবেশ। আর হারিয়ে যেতে বসেছে নদীটির জীব-বৈচিত্র।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পুর্ব সীমন্তবর্তী লালমাটির ঘাট ব্রিজ সংলগ্ন ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফ মহোদী এলাকায় দেখা গেছে নলেয়া নদীর পার কাটার দৃশ্য।
জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নলেয়া নদীটি দীর্ঘ যুগ ধরে শাসন না করায় অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২১ সালে উপজেলার বকশীগঞ্জ হাটের উত্তর পাশ থেকে দক্ষিণে লালমাটির ঘাট পর্যন্ত নলেয়া নদী খনন করা হয়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এসময় উঁচু ও মজবুত করে নদীর দুই পার তৈরী করা হয়েছে। এর ফলে ফিরে আসে নদীর ভরা যৌবন।
এদিকে, সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফ মহোদী গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে রাব্বী মিয়া কতিপয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে অবৈধভাবে মাটি বানিজ্যে মেতে ওঠেছে। লালমাটির ঘাট সংলগ্ন স্থানে ভেকু মেশিন বসিয়ে রাতভর মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এতে করে নদীর অস্তিত্ব বিলীন হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাটিখেকো রাব্বী মিয়া।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, কয়েক বছর আগে নলেয়া নদী খনন করার পর দূষণ রোধসহ নাব্যতা ফিরছিলো। এরই মধ্যে নদীর দুই পার বিলীন করে মাটি বানিজ্যে করায় আবারও নদীটির যৌবন হারাতে বসেছে।
কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, নদী খননের সময় আমার জমিতে মাটি রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত সেইসব মাটি রাব্বী মিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করে নিচ্ছি।
অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী রাব্বী মিয়া বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে নলেয়া নদীর পারের পাশে রাখা অতিরিক্ত মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান বলেন, নদী পারস্থ পাশে থাকা অতিরিক্ত মাটি কৃষক অপসারণ করে নিতে পারবেন। তবে কোনভাবে নদীর পার কাটা যাবে না।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ শুকুর আলী মিয়া বলেন, ওইস্থানে মাটি বানিজ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করতে পারেন।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট 

















