গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আইদি ইসলামিয়া মাদরাসার ১ একর ২৭ শতক জমি অবৈধভাবে ভোগদখলের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় আব্দুল বাকী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। এদিকে ওই জমি উদ্ধার চেষ্টায় হুমকির মুখে পড়ছে জমিদাতার ওয়ারিশ আনোয়ারুল ইসলাম।
সম্প্রতি উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ী গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের জমি সংক্রান্ত সৃষ্ট দ্বন্দ্বের ঘটনা। ইতোমধ্যে এই জমির জেরে মারামারি, গ্রাম্য সালিশ ও আইনি লড়াইও হয়। এমন অপ্রীতিকর ঘটনা বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যবদি জমির বিরোধ নিরসন হয়নি ।
জানা যায়, ওই ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ী গ্রামের হাবিবুল্লাহ ফকিরের ছেলে ইউসুফ উদ্দিন শাহ ফকির ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারের লক্ষে আইদি ইসলামিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি থেকে বিগত ১৯৪০ সালের ৩ মে তারিখে প্রতিষ্ঠানটির নামে ১ একর ২৭ শতক জমি দলিলমূলে ওয়াকফ করে দেন। যার তফসিল বর্ণিত কিশামত বড়বাড়ী মোজাস্থ ১৫ জেএল এর ১০৫ সিএস খতিয়ানের ৬৫ দাগে ৬৫ শতক, ১১৮ দাগে ১৯ শতক, ৩৮০ দাগে ১৯ শতক ও ৩৮২ নং দাগে ২৪ শতকসহ মোট জমি ১ একর ২৭ শতক। যা ৬২ রেকর্ডমূলে ১৩৯ নং আরএস খতিয়ানে ওইসব দাগ উল্লেখ রয়েছে।
দলিলে শর্ত অনুযায়ী মাদরাসা না হওয়ার কারণে দাতা থাকাকালীন জমির উৎপত্তি ফসল তিনি গরীব, মিসকিন, এতিমখানা, মাদরাসায় বিতরণ করে দিতেন। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালে রেকর্ডে সময় ইউসুফ উদ্দিন শাহ ফকির ওই সম্পত্তি মাদরাসার নামকরণ করে রুহুল আমিন ইসলামিয়া মাদরসার নামে ১৯৬২ সালে নিজে মোতয়াললী থেকে রেকর্ড করান। এরপরে নিজ বাড়ী থেকে স্ব-পরিবারে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানায় স্থানান্তর হয়ে চলে যান এবং সেখানে কর্মরত অবস্থায় স্ব-পরিবারে বসবাস করেন।
ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে উৎপত্তি ফসল বিভিন্ন এতিম, মিসকিনদেরকে নিজ হাতে বন্টন করতেন। শাহ ফকির বংশের মুরুব্বিদেরকে ইউসুফ উদ্দিন শাহ ফকির বলেতেন, এই মাদরাসা যতদিন হয়নি ততদিন আমার অবর্তমানে আপনারা সকলমিলে ঠিক আমার মত এইভাবে বন্টন করে দিবেন।
এদিকে ইউসুফ উদ্দিন শাহ ফকিরের মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ এখানে যাতায়াত করতেন এবং সম্পত্তিগুলো দেখাশুনা করতেন এবং কিছুদিন পরে তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বিক্রয় করিতে থাকেন। ইউসুফ উদ্দিন শাহ ফকিরের ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে ছিলেন। কেউ’ই এই সম্পত্তি বিক্রয় করেনি। শুধুমাত্র তার বড় ছেলে সমস্ত সম্পত্তি বিক্রয় করেন। সকল সম্পত্তি বিক্রয় করার পর শুধু ওয়কফকৃত সম্পত্তি থেকে যায়।
একসময় সমির উদ্দিনের ছেলে অসহায় আব্দুল নামে শাহ বংশে এক লোক ছিলেন এবং তার কোন সম্পত্তি ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় বংশের মুরুব্বিরা ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ভোগ করার জন্য তাকে ছেড়ে দেন। তিনি অসুস্থ থাকার কারণে উক্ত সম্পত্তি তার সহোদর ভাই আব্দুল বাকীকে ফসল ফলানোর দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে আব্দুল মৃত্যুবরণ করার কিছুদিন পর আব্দুল বাকী দাবি করেন যে, ওয়াকফকৃত জমির মালিকের ছেলে ও তার ওয়ারিশগণ আমার কাছে উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করেন এবং এই মর্মে একটি ভুয়া দলিলও সংগ্রহ করেন। এরপর থেকে তিনি উক্ত জমিতে ফসল উৎপাদন করতে থাকেন।
এদিকে ২০১৪ সালে দাতার ওয়ারিশ উক্ত জমির খোঁজে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে কিশামত বড়বাড়ীতে আসেন এবং একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান যে মাদরাসার নামে ওয়াকফকৃত জমি ভুয়া দলিল সংগ্রহ করে আব্দুল বাকী অবৈধভাবে দখল করে আছেন এবং কিছু সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রিও করেছেন।
এমতাবস্থায় জমিদাতার ওযারিশ কোন কূল কিনারা খুঁজে না পেয়ে অত্র এলাকার মুরুব্বিদের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ করেন এবং সকলের পরামর্শক্রমে আনোয়ার হোসেন (আনারুল) কর্তৃক ইউসুফ উদ্দিন শাহ ফকিরের ওয়াকফকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্বগ্রহণ করেন এবং তার এই কাজে বরাবরে সাহায্য করেন মুসা মিয়া, নাজমুল হুদা, মাহাবুর মিয়া। তারা সকলমিলে ওয়াদা করেন এবং বলেন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করবো।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভুক্তভোগি আনোয়ার হোসেন (আনারুল) বলেন, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি উদ্ধার চেষ্টা করা হলে আব্দুল বাকী গংরা একাধিক মিথ্যা মামলা দিলে প্রত্যেকটিতে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হয় এবং এই সমস্ত মামলা মোকদ্দমায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হয়রানি পেরেষাণি জেল হাজতে প্রেরণসহ আর্থিক খয়ক্ষতি করে আসছে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল বাকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার নাতী জোবায়ের রহমান বলেন, উল্লেখিত তফসিল বর্নিত জমি ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে আমরা ফসল উৎপাদন করে আসছি।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট 

















