শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শৈত্যপ্রবাহে রসুন নিয়ে দুশ্চিন্তায় খানসামার রসুন চাষিরা

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র ঠান্ডায় রসুনের গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার রসুন চাষিরা। কীটনাশক ও স্প্রে করেও কোনো সুফল মিলছে না। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, এটি আবহাওয়া জনিত বিষয়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এসময় বাড়তি যত্ন করলে এবং শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে রসুনের এ সমস্যা কেটে যাবে। উপজেলা কৃষি বিভাগ আরো জানান, এটি টিপবার্ন রোগ।
সরজমিনে উপজেলার গোয়ালডিহি, দুবলিয়া, ভাবকি, হাসিমপুর, মাড়গাঁও, কাচিনীয়া, গুলিয়ারা, বালাপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে রসুনের চাষ হয়েছে। গত কয়েকদিনের জেঁকে বসা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে রসুনের পাতা হলুদ হয়ে গেছে। বিগত বছরগুলোতে রসুন চাষ করে চাষিরা লাভবান হলেও এবার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে  রসুন গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিল দেড় হাজার হেক্টর জমিতে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে  জানা গেছে, এ বছর রসুন চাষে বিঘাপ্রতি বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যায় অন্তত এক থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার রসুনের বীজের দাম বেশি হওয়ায় খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিঘাপ্রতি রসুনের ফলন হবে অন্তত ৪৫-৬০ মণ। প্রতিমণ রসুনের বর্তমান বাজারদর ৭-৮ হাজার টাকা। খরচ বেশি হওয়ার পরেও কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন। বেশি লাভের আশায় এবছর বৃদ্ধি পেয়েছে রসুনের আবাদ। তবে রসুন গাছের পাতার রঙ পরিবর্তন হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাদের।
উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের জমির শাহ্পাড়ার রসুন চাষি রিশাদ শাহ্ বলেন, ‘আমি এ বছর এক বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। রসুনের গাছের পাতার রঙ এমন পরিবর্তন হয়েছে যে দূর থেকে দেখলে মনে হবে সরিষার ক্ষেত। কীটনাশক ব্যবসায়ীর পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করেও ক্ষেতের অবস্থার উন্নতি বা পরিবর্তন হচ্ছে না। এ বছর এমনিতেই বীজ ও সার-কীটনাশকে খরচ বেশি হয়েছে। এ সমস্যায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।
বালাপাড়া গ্রামের কৃষক রসুন চাষি জাকারিয়া ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই চাষাবাদে খরচ বেশি পড়েছে। তার ওপর এমতাবস্থায় চিন্তায় রয়েছি। কৃষি বিভাগ বলেছে আবহাওয়ার কারণেই এমন হচ্ছে, আতঙ্কের কিছু নেই।
হাসিমপুর গ্রামের পুলহাট এলাকার রাশেদ খান গোলাপ জানান, ‘রসুনের এ সমস্যার কারণে কৃষকরা চিন্তায় পড়ে গেছেন। কেননা রসুন চাষে এখন অনেক খরচ। আবাদের ক্ষতি সাধন হলে কৃষকদের লোকসান গুণতে হবে। এজন্য কৃষি বিভাগকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খামারপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের নির্দেশনানুযায়ী আমরা সবসময় ক্ষেত পরিদর্শন ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করি, কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। এবার শীত বেশি হওয়ায় টিপবার্ন রোগটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে এ অবস্থার উন্নতি হবে। কৃষকদের সচেতনতার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাই কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে যে কোনো প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

শৈত্যপ্রবাহে রসুন নিয়ে দুশ্চিন্তায় খানসামার রসুন চাষিরা

প্রকাশের সময়: ০৩:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র ঠান্ডায় রসুনের গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার রসুন চাষিরা। কীটনাশক ও স্প্রে করেও কোনো সুফল মিলছে না। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, এটি আবহাওয়া জনিত বিষয়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এসময় বাড়তি যত্ন করলে এবং শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে রসুনের এ সমস্যা কেটে যাবে। উপজেলা কৃষি বিভাগ আরো জানান, এটি টিপবার্ন রোগ।
সরজমিনে উপজেলার গোয়ালডিহি, দুবলিয়া, ভাবকি, হাসিমপুর, মাড়গাঁও, কাচিনীয়া, গুলিয়ারা, বালাপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে রসুনের চাষ হয়েছে। গত কয়েকদিনের জেঁকে বসা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে রসুনের পাতা হলুদ হয়ে গেছে। বিগত বছরগুলোতে রসুন চাষ করে চাষিরা লাভবান হলেও এবার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে  রসুন গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিল দেড় হাজার হেক্টর জমিতে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে  জানা গেছে, এ বছর রসুন চাষে বিঘাপ্রতি বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যায় অন্তত এক থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার রসুনের বীজের দাম বেশি হওয়ায় খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিঘাপ্রতি রসুনের ফলন হবে অন্তত ৪৫-৬০ মণ। প্রতিমণ রসুনের বর্তমান বাজারদর ৭-৮ হাজার টাকা। খরচ বেশি হওয়ার পরেও কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন। বেশি লাভের আশায় এবছর বৃদ্ধি পেয়েছে রসুনের আবাদ। তবে রসুন গাছের পাতার রঙ পরিবর্তন হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাদের।
উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের জমির শাহ্পাড়ার রসুন চাষি রিশাদ শাহ্ বলেন, ‘আমি এ বছর এক বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। রসুনের গাছের পাতার রঙ এমন পরিবর্তন হয়েছে যে দূর থেকে দেখলে মনে হবে সরিষার ক্ষেত। কীটনাশক ব্যবসায়ীর পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করেও ক্ষেতের অবস্থার উন্নতি বা পরিবর্তন হচ্ছে না। এ বছর এমনিতেই বীজ ও সার-কীটনাশকে খরচ বেশি হয়েছে। এ সমস্যায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।
বালাপাড়া গ্রামের কৃষক রসুন চাষি জাকারিয়া ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই চাষাবাদে খরচ বেশি পড়েছে। তার ওপর এমতাবস্থায় চিন্তায় রয়েছি। কৃষি বিভাগ বলেছে আবহাওয়ার কারণেই এমন হচ্ছে, আতঙ্কের কিছু নেই।
হাসিমপুর গ্রামের পুলহাট এলাকার রাশেদ খান গোলাপ জানান, ‘রসুনের এ সমস্যার কারণে কৃষকরা চিন্তায় পড়ে গেছেন। কেননা রসুন চাষে এখন অনেক খরচ। আবাদের ক্ষতি সাধন হলে কৃষকদের লোকসান গুণতে হবে। এজন্য কৃষি বিভাগকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খামারপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের নির্দেশনানুযায়ী আমরা সবসময় ক্ষেত পরিদর্শন ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করি, কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। এবার শীত বেশি হওয়ায় টিপবার্ন রোগটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে এ অবস্থার উন্নতি হবে। কৃষকদের সচেতনতার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাই কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে যে কোনো প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।