শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে মানিকুল হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চাঞ্চল্যকর মানিকুল হত্যার মূল আসামি সিরাজুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে ঐ হত্যাকান্ডের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। এ সময় জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ওই উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের পাইকারটারী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলাম ওই গ্রামের কান্দু মিয়ার ছেলে এবং হত্যার শিকার মানিকুল ইসলাম একই এলাকার আব্দুর ছাত্তারের ছেলে। ছুরি দিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে সিঙ্গিমারী গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে বাবুল ও মানিকুল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে তাদের উভয়ের ভ্যানগাড়ী রেখে চা খায়। পরে মানিকুলের ভ্যানগাড়ীটি রেখে বাবুলেরটি চুরি করে নিয়ে যায়। যার ফলে ওই চুরির ঘটনায় মানিকুল ইসলামকে সন্দেহ করে বাবুলের পরিবার লোকজন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে চেয়ারম্যান চুরি যাওয়া ভ্যানগাড়ীটি না পাওয়া পর্যন্ত মানিকুলের ভ্যানগাড়ীটি নিজের জিম্মায় রাখে। পরে মানিকুলেরনবন্ধু সিরাজুল চুরি যাওয়া ভ্যানগাড়ীটি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসলে বিস্তারিত ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য মানিকুলকে নিয়ে আসতে বলে। সিরাজুল মানিকুলকে চেয়ারম্যানের কাছে অনেক চেস্টা করেও নিয়ে আসতে ব্যর্থ হলে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিকুলকে ছুরিকাঘাত করে পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেহাংশ একটি ভুট্টা খেতে এবং মাথার অংশ ঘটনার স্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বাঁশ ঝাড়ের নিচে পুঁতে রাখে। এ ঘটনার পর থেকে মানিকুল নিখোঁজ হয়। গত শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ভুট্টা ক্ষেতে তার মাথাবিহীন মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এরপর গত শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে দালালপাড়া এলাকায় বাঁশঝাড়ে ছুরি, মোবাইল ও গর্ত দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে গর্ত থেকে মানিকুলের বিচ্ছিন্ন হওয়া মাথা উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধারের পর সিআইডিসহ পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে হত্যার মোটিভ জানতে এবং হত্যাকারীকে ধরতে কাজ শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযক্তির সহায়তায় হত্যাকারি সিরাজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে গ্রেফতারকৃত আসামি সিরাজুলকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

লালমনিরহাটে মানিকুল হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

প্রকাশের সময়: ০৮:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় চাঞ্চল্যকর মানিকুল হত্যার মূল আসামি সিরাজুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে ঐ হত্যাকান্ডের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। এ সময় জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ওই উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের পাইকারটারী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলাম ওই গ্রামের কান্দু মিয়ার ছেলে এবং হত্যার শিকার মানিকুল ইসলাম একই এলাকার আব্দুর ছাত্তারের ছেলে। ছুরি দিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে সিঙ্গিমারী গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে বাবুল ও মানিকুল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে তাদের উভয়ের ভ্যানগাড়ী রেখে চা খায়। পরে মানিকুলের ভ্যানগাড়ীটি রেখে বাবুলেরটি চুরি করে নিয়ে যায়। যার ফলে ওই চুরির ঘটনায় মানিকুল ইসলামকে সন্দেহ করে বাবুলের পরিবার লোকজন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে চেয়ারম্যান চুরি যাওয়া ভ্যানগাড়ীটি না পাওয়া পর্যন্ত মানিকুলের ভ্যানগাড়ীটি নিজের জিম্মায় রাখে। পরে মানিকুলেরনবন্ধু সিরাজুল চুরি যাওয়া ভ্যানগাড়ীটি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসলে বিস্তারিত ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য মানিকুলকে নিয়ে আসতে বলে। সিরাজুল মানিকুলকে চেয়ারম্যানের কাছে অনেক চেস্টা করেও নিয়ে আসতে ব্যর্থ হলে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিকুলকে ছুরিকাঘাত করে পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেহাংশ একটি ভুট্টা খেতে এবং মাথার অংশ ঘটনার স্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বাঁশ ঝাড়ের নিচে পুঁতে রাখে। এ ঘটনার পর থেকে মানিকুল নিখোঁজ হয়। গত শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ভুট্টা ক্ষেতে তার মাথাবিহীন মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এরপর গত শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে দালালপাড়া এলাকায় বাঁশঝাড়ে ছুরি, মোবাইল ও গর্ত দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে গর্ত থেকে মানিকুলের বিচ্ছিন্ন হওয়া মাথা উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধারের পর সিআইডিসহ পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে হত্যার মোটিভ জানতে এবং হত্যাকারীকে ধরতে কাজ শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযক্তির সহায়তায় হত্যাকারি সিরাজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে গ্রেফতারকৃত আসামি সিরাজুলকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।