নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মে মাসে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থিতা জাহির করতে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের অর্ধডজন নেতা। এছাড়াও অন্য দলীয়-নির্দলীয় ব্যক্তিরাও নির্বাচনে অংশগ্রণের জন্য জানান দিচ্ছেন। তবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কাউকে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত নীরবে রয়েছেন তারা।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টারসহ বিভিন্ন কায়দায় নিজ প্রার্থিতা প্রকাশ করে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ পর্যন্ত যারা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদুল্যা হেল কবির ফারুক, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ফজলুল হক রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ ওয়াহেদ মিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থক ও জামালপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা, ফরিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুর আজম মন্ডল নিরব ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্কুল শিক্ষক আজিজার রহমান।
ইতোমধ্যে ওইসব ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার লক্ষে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওইসব সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রচারণা দেখা গেছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা বা সমর্থিত কোন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি। একই সঙ্গে বসে নেই ভাইস চেয়ারম্যান পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারাও নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠলেও ভোটারদের মাঝে তেমন কোন উৎসাহ নেই বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানান, এবার যেহেতু দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে তাই নির্বাচন করার জন্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করবে না। সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্র গিয়ে তাদের পছন্দের প্রর্থীকে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করলে ভোট উৎসবে পরিণত হবে।
জানা গেছে, এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার তৈরি করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আবার এসব প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই। তারা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলে বলা যাবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা।
উল্লেখ্য, ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা গঠিত। নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭১। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৫ হাজার ৭০৬ ও নারী ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৬ জন।
তোফায়েল ও শামীম, জাগো২৪.নেট 









