কৃষিভাণ্ডার জেলা হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা। চলতি রবি মৌসুমে এ জেলার ৭ টি উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর।
জানা যায়, চলতি বছরে গাইবান্ধায় বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা, ভারী বর্ষণ ও নিম্নচাপের প্রভাবে কৃষকদের ধান, পাট ও শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এসব ক্ষতি পূষিয়ে নিতে সম্প্রতি কৃষকরা ঝুঁকে পড়ছে শীতকালীন সবজি চাষে। সেই সঙ্গে গত বছরের তুলনা এ বছরে কাঁচা তরকারির দাম বেশী থাকায় শাক-সবজি চাষে প্রান্তীক কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে অনেকটাই।তারা ইতোমধ্যে আলু, লাউ, বেগুন, সিম, কপি, মূলা, পালং শাক, লাল শাক ও সরিষা শাকসহ আরো বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি চাষাবাদ শুরু করছেন।এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষক তাদের উৎপাদিত শীতকালীন সবজি হাট-বাজারে বিক্রিও করছে। রবিশস্য চাষাবাদ ও উৎপাদন আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।
সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে কৃষক আলাউদিন, খাজা মিয়া ও জমির ব্যাপারী বলেন, ইতিপুর্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ফসলহানী হয়েছে। সেটি পুষিয়ে নিতে শাক-সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বাম্পার ফলন পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে দাম ভালো পাওয়া গেলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রেজা-ই মাহমুদ জাগো২৪.নেটকে বলেন, পুষ্টিকর সবজি খাদ্যের চাহিদা পূরণে ইতোমধ্যে বাঁধের দু’ধারেও সবজি চাষে ঝুঁকছে প্রায় ২ হাজার প্রান্তীক কৃষক।
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জাগো২৪.নেটকে বলেন, চলতি রবি মৌসুমে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর অর্জন হয়েছে। এসব কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ তাদের লাভবান করতে মাঠপর্যায়ে সর্বাত্নকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গত বছরের সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করেছিলেন কৃষকরা। তবে এ বছরে সবজি চাষে আগ্রহী বেশী। তাই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জাগো২৪/টিএইচ
তোফায়েল হোসেন জাকির 















