আধুনিক ভবন, সরঞ্জামসহ অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও চিকিৎসক থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও আলট্রাসনো সেবা। ফলে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। তবে ওটির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা বন্ধের কারণ হিসেবে জিআই (জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া) মেশিনের অপ্রতুলতার কথা বললেও এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হামদুল্লাহ।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে মো. হামদুল্লাহ যোগদান করেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, নতুন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অপারেশন থিয়েটার চালু রাখতে নিরুৎসাহিত করে বলেছেন, অপারেশন থিয়েটারে কোনো সমস্যা হলে তিনি দায় নেবেন না। এদিকে, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ হওয়ায় প্রসূতি মা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও টিউমার রোগে আক্রান্ত রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন গর্ভবতী মায়েরা। নরমাল প্রসবের পাশাপাশি জরুরি অস্ত্রোপাচার করতে হলে তাঁদেরকে যেতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে। এতে তাঁদেরকে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। গত ৪ মে শনিবার সকালে উপজেলার পাকেরহাটে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, তালাবদ্ধ রয়েছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। রোগীর স্বজনেরা রোগীকে অপারেশনের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালে আলট্রাসনো মেশিন সচল থাকলেও তা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন।
উপজেলার পাকেরহাট গ্রামের ডিএসফ কার্ডধারী মাহফুজা খাতুন নামে এক প্রসূতি মা বলেন, অস্ত্রোপাচার করানোর জন্য চিকিৎসকের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হই। কিন্তু পরে তাঁরা জানান, অ্যানেসথেসিয়া মেশিনে সমস্যা। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্ত্রোপাচার করানো হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা মজিদা নামে আরেক রোগী জানান, চিকিৎসক আলট্রাসনো করার জন্য পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের মেশিন নাকি বন্ধ। তাই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট ডা. রিজওয়ানুল কবির বলেন, ওটি সচল রাখতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু জরুরি মুর্হুতে রোগীকে ম্যানেজ করার ব্যবস্থা না থাকায় আপাতত ওটি বন্ধ আছে। এ সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহ বলেন, আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত অফিসে অবস্থান করি না। তাই ওটি বন্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অপারেশন থিয়েটার বন্ধে নিরুৎসাহিত করার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, অপারেশন থিয়েটার চালড থাকবে কিনা এটি নির্ভর করবে গাইনি চিকিৎসকের ওপর। কেননা রোগী অপারেশন করতে এলে এটি অবশ্যই গাইনি চিকিৎসক দেখবেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করলে সঠিক উত্তর পাবেন।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট. বিরামপুর )দিনাজপুর) 















