মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসপাতাল ছাড়তে অসুস্থ রোগীকে ছারপত্র

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মারামারিতে গুরুত্বর আহত ৪ রোগীকে অসুস্থ অবস্থায় ছাড়পত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, তাঁরা এখনো অসুস্থ, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। যে কয়েকঘন্টা হাসপাতালে ছিলেন ঠিকমতো চিকিৎসাও পাননি তাঁরা বলেও জানান অসুস্থ ওই ৪ আহত ব্যক্তি।

তাঁরা হলেন, মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মো. মশিহার রহমান (৫২), মো. রফিক মিয়ার ছেলে মো. শহিদুর রহমান (৪০), মো, দুলু মিয়া (১৯) ও মো, হায়দার আলীর ছেলে মো, সুমন মিয়া (২৮)। উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামের বাসিন্দা সবাই।

জানা যায়, মো. মশিহার রহমানের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বক্তার আলীর ছেলে মো. নুরুন্নবী মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। সেই জের ধরে গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ। এতে গুরুতর আহত হন তাঁরা। পরে দুপুর ১ টার দিকে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান স্বজনরা। ভর্তির পরদিন গত শনিবার সকালেই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছারপত্র দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

হাসপাতাল থেকে ফেরত গুরুতর আহত মো,  শহিদুর রহমান বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারামারি এবং পরে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের মাথায় প্রচন্ড আঘাত লাগে। সেলাইও করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিনই ছাড়পত্র দিয়ে আমাদের বের করে দেওয়া হয়। এখনও মাথাব্যথা রয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তাঁরা হাসপাতাল থেকে বের করে দিলেন। এখন আমরা নিরুপায়।

মো. মশিহার রহমান বলেন, কালকে দুপুরে  হাসপাতালে আইনো আর আজকে সকালে বের করে দিলো হাসপাতাল। এখনো মাথা ঘুরপাক করছে। ব্যাথা আছে। চলতে পারছি না। গরিব মানুষ আমরা। এখন কই যামো।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো, রাকিবুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। যাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো মনে হয়েছে। কেবল তাঁদেরই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো চাপ নয়, পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আরএমও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক। যারা সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাদের রিলিজ দেওয়া হয়।

হাসপাতাল ছাড়তে অসুস্থ রোগীকে ছারপত্র

প্রকাশের সময়: ১০:১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মারামারিতে গুরুত্বর আহত ৪ রোগীকে অসুস্থ অবস্থায় ছাড়পত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, তাঁরা এখনো অসুস্থ, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। যে কয়েকঘন্টা হাসপাতালে ছিলেন ঠিকমতো চিকিৎসাও পাননি তাঁরা বলেও জানান অসুস্থ ওই ৪ আহত ব্যক্তি।

তাঁরা হলেন, মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মো. মশিহার রহমান (৫২), মো. রফিক মিয়ার ছেলে মো. শহিদুর রহমান (৪০), মো, দুলু মিয়া (১৯) ও মো, হায়দার আলীর ছেলে মো, সুমন মিয়া (২৮)। উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামের বাসিন্দা সবাই।

জানা যায়, মো. মশিহার রহমানের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বক্তার আলীর ছেলে মো. নুরুন্নবী মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। সেই জের ধরে গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ। এতে গুরুতর আহত হন তাঁরা। পরে দুপুর ১ টার দিকে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান স্বজনরা। ভর্তির পরদিন গত শনিবার সকালেই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছারপত্র দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

হাসপাতাল থেকে ফেরত গুরুতর আহত মো,  শহিদুর রহমান বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারামারি এবং পরে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের মাথায় প্রচন্ড আঘাত লাগে। সেলাইও করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিনই ছাড়পত্র দিয়ে আমাদের বের করে দেওয়া হয়। এখনও মাথাব্যথা রয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তাঁরা হাসপাতাল থেকে বের করে দিলেন। এখন আমরা নিরুপায়।

মো. মশিহার রহমান বলেন, কালকে দুপুরে  হাসপাতালে আইনো আর আজকে সকালে বের করে দিলো হাসপাতাল। এখনো মাথা ঘুরপাক করছে। ব্যাথা আছে। চলতে পারছি না। গরিব মানুষ আমরা। এখন কই যামো।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো, রাকিবুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। যাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো মনে হয়েছে। কেবল তাঁদেরই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো চাপ নয়, পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আরএমও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক। যারা সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাদের রিলিজ দেওয়া হয়।