রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়া-৪ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা, মর্যাদার লড়াইয়ে প্রার্থীরা

নাজমুল হুদা : আর মাত্র ক’দিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ নির্বাচনে মর্যাদার লড়াইয়ে লড়ছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের নেতাকর্মীরা। এই আসনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা সবচেয়ে জোরালোভাবে চোখে পড়ছে। ২ দলের প্রার্থীরাই দিনভর গ্রাম থেকে গ্রাম, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে হাতপাখা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রচারণা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। বগুড়া-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, এই আসনের মানুষ বরাবরই বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ধানের শীষে সিল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে সাধারণ ভোটররা। এবারের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ বিজয়ী হবে ইনশাঅল্লাহ। তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন বলেও জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, আমি মানুষের সাড়া পাচ্ছি। সততা, ন্যায় ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এবার দাঁড়িপাল্লার জয় হবে ইনশাঅল্লাহ।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক বলেন, আমি আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে চাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী বলেন, ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমি নির্বাচন করছি। ভোটারদের সাড়াও পাচ্ছি। ইতিহাস বলছে, বগুড়া-৪ আসনটিতে স্বাধীনতার পর ১২টি জাতীয় সংসদ ও ২টি জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনসহ মোট ১৪টি নির্বাচন হয়েছে। এলাকার ভোটাররা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবো।

নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রার্থীরা যেনো সমান সুযোগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে নজর রাখছি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা যেনো নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

বগুড়া-৪ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা, মর্যাদার লড়াইয়ে প্রার্থীরা

প্রকাশের সময়: ০৩:১৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাজমুল হুদা : আর মাত্র ক’দিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ নির্বাচনে মর্যাদার লড়াইয়ে লড়ছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের নেতাকর্মীরা। এই আসনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা সবচেয়ে জোরালোভাবে চোখে পড়ছে। ২ দলের প্রার্থীরাই দিনভর গ্রাম থেকে গ্রাম, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে হাতপাখা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রচারণা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। বগুড়া-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, এই আসনের মানুষ বরাবরই বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ধানের শীষে সিল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে সাধারণ ভোটররা। এবারের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ বিজয়ী হবে ইনশাঅল্লাহ। তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন বলেও জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, আমি মানুষের সাড়া পাচ্ছি। সততা, ন্যায় ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এবার দাঁড়িপাল্লার জয় হবে ইনশাঅল্লাহ।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক বলেন, আমি আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে চাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী বলেন, ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমি নির্বাচন করছি। ভোটারদের সাড়াও পাচ্ছি। ইতিহাস বলছে, বগুড়া-৪ আসনটিতে স্বাধীনতার পর ১২টি জাতীয় সংসদ ও ২টি জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনসহ মোট ১৪টি নির্বাচন হয়েছে। এলাকার ভোটাররা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবো।

নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রার্থীরা যেনো সমান সুযোগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে নজর রাখছি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা যেনো নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।