শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর-৪ আসনে নির্বাচনে নেই চিরচেনা আমেজ

মো. রফিকুল ইসলাম: দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে এবারের নির্বাচনের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। নেই বিদ্যুতের খুঁটিতে রঙিন ফেস্টুন, নেই দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারের স্তুপ এবং নেই গাছে গাছে ঝোলানো ব্যানার। নির্বাচনের সময় চিরচেনা এসব দৃশ্যগুলোর অনুপস্থিতিতে গ্রাম কিংবা শহরে ফিরেছে এক অভূতপূর্ব পরিচ্ছন্নতা। পরিবেশের জন্য এটি ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের চিরাচরিত উৎসবের আমেজে অনেকটা ভাটা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নির্দেশনায় এবার পোস্টার ও অপচনশীল প্রচার সামগ্রী পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ফলে শিক্ষানগরী চিরিরবন্দর, বাণিজ্যিক এলাকা রানীরবন্দর, ভূষিরবন্দর, চম্পাতলী ও খানসামা উপজেলার পাকেরহাট, ভুল্লারহাট, কাচিনীয়াহাটসহ নির্বাচনী এলাকার সর্বত্রই দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও খানসামা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে পাড়া-মহল্লা, রাস্তা-ঘাট, হোটেল-রেস্তরায় যেভাবে পোস্টারে ভরে থাকতো, সেই দৃশ্য এবার আর নেই। প্রার্থীরা এখন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মাইকিং, ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সুধীজন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের একটি বৃহৎ অংশ বলছেন, পোস্টার না থাকায় প্রার্থীদের সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রবীণ ও নিম্নআয়ের ভোটাররা যারা ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে, তারা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের মো. ছাবের উদ্দিন ও রবিউল ইসলাম বলেন, অনলাইনে প্রচার বয়স্ক মানুষের নিকট পৌঁছাচ্ছে না। পোস্টার দেখে আগে প্রার্থী চিনতাম। এবার কে দাঁড়িয়েছে সেটাই তো ঠিকমতো জানি না।

চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের কিষ্টহরির আব্দুল জব্বার শাহ (৬৫) বলেন, আমার স্মার্টফোন নেই, পোস্টার নেই, মাঝে-মধ্যে মাইকিং শুনলে বোঝা যায় ভোট এসেছে।

কয়েকজন নতুন ভোটার বলেন, এবার আমার নতুন ভোট হয়েছে। তাই এবার ভোট দেয়ার আশা করছি। কিন্তু পোস্টার ও সেভাবে প্রচার-প্রচারণা না থাকায় মনেই হচ্ছে না ভোটের আমেজ চলছে। তবে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটাররা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন চিরিরবন্দর-খানসামা সমন্বিত সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো.সফিকুল আলম সফি বলেন, ‘নির্বাচনের পর কাগজ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের যে পাহাড় তৈরি হতো, এবার তা নেই। এটি পরিবেশ সুরক্ষার দিকে একটি বড় অগ্রগতি।’ দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার-প্রচারণার নামে দেয়াল ও গাছ দখলের যে সংস্কৃতি ছিল, তা বন্ধ হওয়ায় ভবিষ্যতের জন্য ভালো একটি উদ্যোগ। সব মিলিয়ে দিনাজপুর-৪ আসনে পোস্টারবিহীন নির্বাচন পরিবেশে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ভোটের মাঠের চিরচেনা রঙিন উৎসবের আমেজ কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয়

দিনাজপুর-৪ আসনে নির্বাচনে নেই চিরচেনা আমেজ

প্রকাশের সময়: ০৮:৫৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মো. রফিকুল ইসলাম: দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে এবারের নির্বাচনের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। নেই বিদ্যুতের খুঁটিতে রঙিন ফেস্টুন, নেই দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারের স্তুপ এবং নেই গাছে গাছে ঝোলানো ব্যানার। নির্বাচনের সময় চিরচেনা এসব দৃশ্যগুলোর অনুপস্থিতিতে গ্রাম কিংবা শহরে ফিরেছে এক অভূতপূর্ব পরিচ্ছন্নতা। পরিবেশের জন্য এটি ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের চিরাচরিত উৎসবের আমেজে অনেকটা ভাটা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নির্দেশনায় এবার পোস্টার ও অপচনশীল প্রচার সামগ্রী পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ফলে শিক্ষানগরী চিরিরবন্দর, বাণিজ্যিক এলাকা রানীরবন্দর, ভূষিরবন্দর, চম্পাতলী ও খানসামা উপজেলার পাকেরহাট, ভুল্লারহাট, কাচিনীয়াহাটসহ নির্বাচনী এলাকার সর্বত্রই দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও খানসামা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে পাড়া-মহল্লা, রাস্তা-ঘাট, হোটেল-রেস্তরায় যেভাবে পোস্টারে ভরে থাকতো, সেই দৃশ্য এবার আর নেই। প্রার্থীরা এখন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মাইকিং, ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সুধীজন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের একটি বৃহৎ অংশ বলছেন, পোস্টার না থাকায় প্রার্থীদের সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রবীণ ও নিম্নআয়ের ভোটাররা যারা ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে, তারা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের মো. ছাবের উদ্দিন ও রবিউল ইসলাম বলেন, অনলাইনে প্রচার বয়স্ক মানুষের নিকট পৌঁছাচ্ছে না। পোস্টার দেখে আগে প্রার্থী চিনতাম। এবার কে দাঁড়িয়েছে সেটাই তো ঠিকমতো জানি না।

চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের কিষ্টহরির আব্দুল জব্বার শাহ (৬৫) বলেন, আমার স্মার্টফোন নেই, পোস্টার নেই, মাঝে-মধ্যে মাইকিং শুনলে বোঝা যায় ভোট এসেছে।

কয়েকজন নতুন ভোটার বলেন, এবার আমার নতুন ভোট হয়েছে। তাই এবার ভোট দেয়ার আশা করছি। কিন্তু পোস্টার ও সেভাবে প্রচার-প্রচারণা না থাকায় মনেই হচ্ছে না ভোটের আমেজ চলছে। তবে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটাররা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন চিরিরবন্দর-খানসামা সমন্বিত সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো.সফিকুল আলম সফি বলেন, ‘নির্বাচনের পর কাগজ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের যে পাহাড় তৈরি হতো, এবার তা নেই। এটি পরিবেশ সুরক্ষার দিকে একটি বড় অগ্রগতি।’ দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার-প্রচারণার নামে দেয়াল ও গাছ দখলের যে সংস্কৃতি ছিল, তা বন্ধ হওয়ায় ভবিষ্যতের জন্য ভালো একটি উদ্যোগ। সব মিলিয়ে দিনাজপুর-৪ আসনে পোস্টারবিহীন নির্বাচন পরিবেশে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ভোটের মাঠের চিরচেনা রঙিন উৎসবের আমেজ কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।