মো. রফিকুল ইসলাম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। শেষ মুহুর্তে নিজ নিজ দলের পক্ষ্যে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ব্যাপক জোরালোভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সকল হাট-বাজারের হোটেল-রেস্তরা, দোকানপাটে সরব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে নির্বাচন। রাস্তাঘাটে চলাচলকারী ভ্যান, অটো চার্জার, অটো রিক্সায় যাত্রীরাও আসন্ন ভোট নিয়ে আলোচনা করছেন। এ আসনে চিরিরবন্দর উপজেলায় ১২টি ও খানসামা উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে দিনাজপুর-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৩০৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৯৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
বিভিন্ন হাট বাজার ও রাস্তাঘাটে ঘুরে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত সমানতালে নিজ নিজ দলের কৌশল প্রয়োগ করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপি বরাবরেই জামায়াতের তুলনায় একটু বেশি শক্তিশালী। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে জোটগতভাবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমবারের মত নির্বাচিত হয়েই এলাকায় জিয়া সেতু, সরকারি হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ করে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। তিনি বিগত ১৭ বছরে আদালত চত্বর থেকে শুরু করে সকল সময়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীর পাশে থাকায় গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়। তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও তৃণমুলে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতা থাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তাঁকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়। মনোনয়ন বঞ্চিত দুজন নেতা ও তাদের কয়েকজন সমর্থক ছাড়া বাকি সকল নেতাকর্মী তাঁর সাথে একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। হিন্দু ভোটার ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা স্বাধীনতা প্রশ্নে এবারে বিএনপিকে ভোট দিবে এটা অনেকটা নিশ্চিত। এ আসনে ১৮টি ইউনিয়নের অন্তত ১৩ থেকে ১৪টি ইউনিয়নে বিএনপির ব্যাপক প্রভাব থাকায় ভোটেও এগিয়ে থাকবে বলে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লারও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে রাজনীতির সুযোগ না পেলেও ভিতরে ভিতরে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। তাদের রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক। বিগত নির্বাচনের ভোটসংখ্যার চেয়ে বর্তমানে তাদের ভোট বেশিই হবে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি জানান, জামায়াতের ভোট অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির কর্মীর চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। জামায়াতের সকল নেতাকর্মী নিজেদের হাদিয়ার টাকা নির্বাচনী তহবিলে দেয়ার পরেও নিজের টাকা খরচ করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াত প্রার্থী বিএনপির প্রত্যক্ষ সাহায্য-সহযোগিতায় পরপর দুইবার উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে নিজের গ্রহণযোগ্যতা করে নিয়েছেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হুসাইন নদভী হাতপাখা প্রতিক নিয়ে সাধ্যমত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলেম, ঈমামসহ ইসলাম ধর্মীয় লোকজনের একটা অংশ তাঁর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি প্রথমবারের মত প্রার্থী হওয়ায় এখনও তেমন পরিচিতি পাননি। জাতীয় পাটির লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন শাহ পুর্বে দুইবার ইউপি সদস্য থাকলেও সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। তবে জাতীয় পাটির তেমন একটা ইমেজ নেই। বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয়পাটির ১০ সহস্রাধিক ভোট থাকলেও এখন তেমনটা নেই। জাতীয়পাটির প্রার্থীও তাঁর সাধ্যমত প্রচারণা চালাচ্ছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তবে এ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যেই দ্বিমূখী লড়াই হবে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য প্রশাসনও বেশ তৎপর থাকবে। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্ণিং অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন হতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যেকোনো মুল্যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা হবে। যারাই নির্বাচন বানচাল বা অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ ব্যাপক সংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। এছাড়াও বডি ক্যামেরা থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














