শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা-৩ আসন: বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর শক্ত লড়াই

তোফায়েল হোসেন জাকির:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রার্থীদের নির্বাচনি মাঠ ততই সরগরম হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মিছিল-লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে মুখর হয়ে উঠছে। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ে হবে বলে ধারণা করেছেন ভোটাররা।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে লেবু মাওলানার ভোটের মাঠে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে। এখানকার বেশিরভাগ ভোটারের মুখে-মুখে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার রব। ইতোমধ্যে প্রার্থী ও সমর্থকরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে কাজ করছেন।

এছাড়া গাইবান্ধা-৩ আসনে আরও ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে মইনুর রাব্বী চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে সুরুজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে এটিএম আওলাদ হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকে আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, জনতার দলের কলম প্রতীকের মনজুরুল হক, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী আজিজার রহমান। এসব প্রার্থীর মধ্যে ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীরাও কোমর বেধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এক সময়ে গাইবান্ধা-৩ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ ছিলো। সেটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এরপর আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও মাঠে নেই তার তেমন প্রচার-প্রচারণা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে সরব বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। এ আসনের সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক ও পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজুরুল ইসলাম (লেবু মাওলানা) পৃথক দুটি উপজেলা থেকে প্রার্থী হওয়ায় তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় ভোটারদের অভিমত- এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিক ও জামায়াতের প্রার্থী লেবু মাওলানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে- সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পলাশবাড়ী একটি পৌরসভা এবং ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩১ গাইবান্ধা-৩ সংসদীয় নির্বাচনী আসন। সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৭৫টি ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ৭১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (লেবু মাওলানা) বলেন, ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া মিলছে। আমি নির্বাচিত হলে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পৌরসভা গঠনসহ দুই উপজেলায় সমভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, যেভাবে ভোটাররা সাড়া দিয়েছে তাতে করে আমি নির্বাচিত হবই ইনশাল্লাহ্। সেইসঙ্গে এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, মানুষের আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।

সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে যখন যেখানে যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হবে তাৎক্ষণিকভাবে তা অবশ্যই নেওয়া হবে। এ আসনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন এ কর্মকর্তারা।

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৯ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৮ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধা-৩ আসন: বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর শক্ত লড়াই

প্রকাশের সময়: ০৮:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রার্থীদের নির্বাচনি মাঠ ততই সরগরম হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মিছিল-লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে মুখর হয়ে উঠছে। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ে হবে বলে ধারণা করেছেন ভোটাররা।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে লেবু মাওলানার ভোটের মাঠে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে। এখানকার বেশিরভাগ ভোটারের মুখে-মুখে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার রব। ইতোমধ্যে প্রার্থী ও সমর্থকরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে কাজ করছেন।

এছাড়া গাইবান্ধা-৩ আসনে আরও ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে মইনুর রাব্বী চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে সুরুজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে এটিএম আওলাদ হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকে আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, জনতার দলের কলম প্রতীকের মনজুরুল হক, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী আজিজার রহমান। এসব প্রার্থীর মধ্যে ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীরাও কোমর বেধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এক সময়ে গাইবান্ধা-৩ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ ছিলো। সেটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এরপর আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও মাঠে নেই তার তেমন প্রচার-প্রচারণা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে সরব বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। এ আসনের সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক ও পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজুরুল ইসলাম (লেবু মাওলানা) পৃথক দুটি উপজেলা থেকে প্রার্থী হওয়ায় তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় ভোটারদের অভিমত- এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিক ও জামায়াতের প্রার্থী লেবু মাওলানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে- সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পলাশবাড়ী একটি পৌরসভা এবং ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩১ গাইবান্ধা-৩ সংসদীয় নির্বাচনী আসন। সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৭৫টি ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ৭১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (লেবু মাওলানা) বলেন, ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া মিলছে। আমি নির্বাচিত হলে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পৌরসভা গঠনসহ দুই উপজেলায় সমভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, যেভাবে ভোটাররা সাড়া দিয়েছে তাতে করে আমি নির্বাচিত হবই ইনশাল্লাহ্। সেইসঙ্গে এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, মানুষের আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।

সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে যখন যেখানে যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হবে তাৎক্ষণিকভাবে তা অবশ্যই নেওয়া হবে। এ আসনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন এ কর্মকর্তারা।

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৯ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৮ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।