মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ২৯ শিক্ষক-কর্মচারীর ৮ শিক্ষার্থী পাস করেনি কেউ!

দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গাইবান্ধা জেলার দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ৮ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। শতভাগ অকৃতকার্য ফলাফলের কারনে চরম উদ্বিগ্ন অন্য শ্রেণির ছাত্রীরাসহ অভিভাবকরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি বিগত ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ১৯৮৭ সালে জুনিয়র হাইস্কুল হিসেবে এমপিও ভুক্ত হয়। আর এ বছরেই প্রথম বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়। এরপর চলতি বছরে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় কিন্তু তারা কেউ পাস করেনি।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাকী বিল্লাহ বলেন, এ বিদ্যালয়ে মোট ৭ শিক্ষক ও ৬ কর্মচারী কর্মরত আছেন। তারা সবাই নিয়মিত বেতন ভাতা পান। হঠাৎ করে ফলাফল বিপর্যয়ে আমরা সবাই মর্মাহত। আগমী বছরে ভালো ফলাফলের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে, জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল হয়েছে।

বিদদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরিক্ষায় ৩ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। তাতে এই বিদ্যালয়ের একজনও শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সবশ্রেণিদে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। একজন প্রধান শিক্ষকসহ ১১ শিক্ষক ও ৫ কর্মচারী আছেন। তারা সবাই নিয়মিত সরকারের বেতন ভাতা পান।

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, এরআগে বিদ্যালয়টির ফলাফল এমন বিপর্যায় হয়নি। তিন জন শিক্ষার্থী সবাই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক। তিনি দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক অসুস্থ। বর্তমানে গণিতের ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে আছেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, কেন, কি কারণে শতভাগ ফেল হয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয় দুটির প্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ে ২৯ শিক্ষক-কর্মচারীর ৮ শিক্ষার্থী পাস করেনি কেউ!

প্রকাশের সময়: ০৫:১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গাইবান্ধা জেলার দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ৮ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। শতভাগ অকৃতকার্য ফলাফলের কারনে চরম উদ্বিগ্ন অন্য শ্রেণির ছাত্রীরাসহ অভিভাবকরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি বিগত ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ১৯৮৭ সালে জুনিয়র হাইস্কুল হিসেবে এমপিও ভুক্ত হয়। আর এ বছরেই প্রথম বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়। এরপর চলতি বছরে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় কিন্তু তারা কেউ পাস করেনি।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাকী বিল্লাহ বলেন, এ বিদ্যালয়ে মোট ৭ শিক্ষক ও ৬ কর্মচারী কর্মরত আছেন। তারা সবাই নিয়মিত বেতন ভাতা পান। হঠাৎ করে ফলাফল বিপর্যয়ে আমরা সবাই মর্মাহত। আগমী বছরে ভালো ফলাফলের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে, জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল হয়েছে।

বিদদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরিক্ষায় ৩ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। তাতে এই বিদ্যালয়ের একজনও শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সবশ্রেণিদে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। একজন প্রধান শিক্ষকসহ ১১ শিক্ষক ও ৫ কর্মচারী আছেন। তারা সবাই নিয়মিত সরকারের বেতন ভাতা পান।

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, এরআগে বিদ্যালয়টির ফলাফল এমন বিপর্যায় হয়নি। তিন জন শিক্ষার্থী সবাই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক। তিনি দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক অসুস্থ। বর্তমানে গণিতের ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে আছেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, কেন, কি কারণে শতভাগ ফেল হয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয় দুটির প্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।