১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫-এ মেধাক্রমে পঞ্চম স্থান অর্জন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সন্তান সৈয়দা শাওলিন আলো। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
সৈয়দা শাওলিন আলো দুর্গাপুর গ্রামের একটি শিক্ষিত ও শিক্ষক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা সৈয়দ সোহরাব হোসেন স্থানীয় ঢোলভাঙ্গা কলেজের সাবেক শিক্ষক। তাঁর মা-ও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠায় পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
শাওলিন আলোর পারিবারিক শিক্ষার ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। তাঁর নানা সৈয়দ আব্দুর রব (সোনা বিএসসি) পলাশবাড়ী এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষকতা ও জনসেবার এমন পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শাওলিন আলোর সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলে মেধাক্রমে পঞ্চম স্থান অর্জন করেন শাওলিন আলো। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিচার বিভাগে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল জজ হিসেবে কর্মজীবন শুরুর সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
তাঁর এই অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুর্গাপুর গ্রামসহ পলাশবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। স্বজন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, শাওলিন আলোর সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অধ্যয়ন ও লক্ষ্যনিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব—তাঁর ফলাফল সেটিই তুলে ধরেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর সৈয়দা শাওলিন আলো সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিজ এলাকার সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।
শাওলিন আলোর বাবা সৈয়দ সোহরাব হোসেন মেয়ের এই সাফল্যে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন, মেয়ের এই অর্জনে পরিবারের সবাই আনন্দিত। ভবিষ্যতে যেন তিনি সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
বিজ্ঞাপন

তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
























