একদিন যাঁরা ছিলেন কর্মচঞ্চল, সংসারের হাল ধরেছিলেন নিজের হাতে, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁদের অনেকের জীবনই থমকে যায়। চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা, অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আর অনিশ্চয়তা হয়ে ওঠে নিত্যসঙ্গী।
এই মানুষগুলোর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালানোর চেষ্টা করছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর বাজারের ‘মানবতার সদাই ঘর’-এর পরিচালক আব্দুর রহিম সরকার।
প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তিনি ২ হাজার ৬০০ টাকার মূল্যের চাল-ডালসহ বিভিন্ন পণ্য মাত্র ২০ টাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করছেন। উদ্দেশ্য একটাই—সহায়তার পাশাপাশি তাদের আয় করার সুযোগ তৈরি করা।
স্থানীয়রা বলছেন- হয়তো ২ হাজার ৬০০ টাকা অনেকের কাছে বড় কোনো অঙ্ক নয়। কিন্তু একজন কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের নিজের হাতে উপার্জিত এই অর্থের মূল্য অনেক বেশি। এতে যেমন পরিবারের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে, তেমনি ফিরছে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা। আর একটি ছোট পণ্য, সামান্য আয়—আর তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
আব্দুর রহিমের এই উদ্যোগ যেন মনে করিয়ে দেয়—মানুষকে শুধু সাহায্য করাই মানবতা নয়, তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়াও মানবতার বড় দৃষ্টান্ত।
স্বেচ্ছাসেবী যুবক কাওছার হাবীব আকাশ জাগো২৪.নেট-কে বলেন, দামোদরপুর ইউনিয়নের অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফেরাতে কাজ করছে ‘মানবতার সদাই ঘর’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুর রহিম সরকার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ২ হাজার ৬০০ টাকার বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ২০ টাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করছেন। এছাড়া অসহায় মানুষের জন্য ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাপত্র মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
এ বিষয়ে ‘মানবতার সদাই ঘর’-এর পরিচালক আব্দুর রহিম সরকার জাগো২৪.নেট-কে বলেন, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত মানুষগুলো সমাজের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। অসুস্থতার কারণে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না, ফলে তাঁরা পরিবার ও সমাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাঁদের এই কষ্ট ও অসহায়ত্ব আমাকে ভাবিয়েছে। তাই শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাঁদের নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার চেষ্টা করছি।
বিজ্ঞাপন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 






















