কোন কারন না জানিয়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৪টি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর ফলে একই এলাকার প্রায় অর্ধশত কৃষকের শতাধিক বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এই অনাঙ্খিত ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দি গ্রামীণ মাঠে দেখা গেছে- বোরো চাষিদের আহাজারির দৃশ্য। সেচপাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্নর ঘটনায় হতাশায় দিন কাটছে এখানকার কৃষকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাদুল্লাপুর জোনাল অফিসের ট্যারিফ ক্যাটাগরি- এলটি-বি এর মহিষবান্দি এলাকার নিয়মিত গ্রাহক আবু তাহের আকন্দ (হিসাব নং ২৫০-১৬৩০), লিয়াকত আকন্দ (হিসাব নং ২৫০-৪৩৭০), আইয়ুব আলী (হিসাব নং ২৫০-৪৩৭৬) ও আজিম উদ্দিন (হিসাব নং ২৫০-৪৪০০) বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে প্রায় দুইযুগ ধরে সাধারণ কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বোরো ফসল উৎপাদন করে দিয়ে আসছেন। প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরেও কৃষকরা শুরু করেছেন বোরো চাষাবাদ। কেউ কেউ করেছেন চারা রোপন, কেউ বা আবার রোপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরই মধ্যে সাদুল্লাপুর জোনাল অফিসের দায়িত্বশীলরা ওইসব গ্রাহকদের কোন কিছু না জানিয়ে একযোগে ৪টি সেচপাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শতাধিক বিঘার বোরো ধান আবাদে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষক আয়নাল আকন্দ বলেন, প্রাথমিকভাবে পানি নিয়ে কেবলমাত্র চারা রোপন করেছি। এরই মধ্যে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মোটরের লাইন কেটে দিয়েছে। এখন কিভাবে আবাদ করব এই চিন্তায় আছি।
আরেক কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, সম্প্রতি চারা রোপনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন পানির অভাবে জমি ভিজিয়ে কাদা করতে না পারায় চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
ভুক্তভোগী গ্রাহক (সেচপাম্প মালিক) আবু তাহের আকন্দ, লিয়াকত আকন্দ, আইয়ুব আলী ও আজিম উদ্দিন বলেন, আমাদের কোন নোটিশ না দিয়ে কিংবা পুর্ব অবগত না করে সেচপাম্পগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এখন কৃষকদের জমিতে সেচ দিতে পারছিনা। এ কারনে কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাদুল্লাপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নুরুল ছামছুল হুদা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ওইসব সেচপাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















