মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোষা সাপের কামড়ে প্রাণ গেল যুবকের

‘দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষা’ প্রবাদ বাক্যের বাস্তবে রুপ লাভ করেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায়। নিজের পোষা গোখরা (গোমা) সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শাকিল ইসলাম নামে এক যুবকের। এ ঘটনাটি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের গাঢ়পাড়া গ্রামের পেশার মেম্বারপাড়ায় ঘটেছে। নিহত শাকিল ইসলাম (৩১) উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের গাঢ়পাড়া গ্রামের পেশার মেম্বারপাড়ার ফরমাজ আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাকিল পেশায় একজন গুনিক (ওঝা/মাহান)। তিনি বিভিন্ন প্রকার সাপ নিয়ে খেলা করতেন। গত রমজান মাসের পূর্বে তিনি একটি গোখরা সাপ ধরে এনে বাড়িতে লালন-পালন করতে থাকেন। এর একপর্যায়ে হঠাৎ ওই গোখরা সাপটি তাকে কামড় দেয়। বিষয়টি গোপন রেখে প্রথমে তিনি নিজেই সাপে কাটার বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা বুঝতে পেরে তাকে একজন অভিজ্ঞ গুনিকের (মাহান/ওঝা) নিকট নিয়ে যান। এতেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গত ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাকিলের মৃত্যু নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলেও তার পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে, হয়তো ওঝা দিয়ে ঝাঁড়-ফুক করলে শাকিলের প্রাণ ফিরে আসবে। সেই বিশ্বাসে তারা ওঝা-গুনিক নিয়ে এসে রাতভর ঝাঁড়ফুক করান। যা দেখতে এলাকাবাসীর উপচে পড়া ভিড় ছিল। কিন্তু তাদের সেই বিশ্বাস আর সত্যি প্রমাণ হয়নি। অবশেষে গতকাল ২৩ এপ্রিল বুধবার সকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাকিলকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তিনি ওঝা বা মাহানগিরি করতেন। আমি তাকে অনেকবার সাপ নিয়ে খেলা করতে দেখেছি। কিন্তু সেই সাপ খেলাই শাকিলের জীবনের ইতি টানল। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনাটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পোষা সাপের কামড়ে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশের সময়: ০৫:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

‘দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষা’ প্রবাদ বাক্যের বাস্তবে রুপ লাভ করেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায়। নিজের পোষা গোখরা (গোমা) সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শাকিল ইসলাম নামে এক যুবকের। এ ঘটনাটি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের গাঢ়পাড়া গ্রামের পেশার মেম্বারপাড়ায় ঘটেছে। নিহত শাকিল ইসলাম (৩১) উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের গাঢ়পাড়া গ্রামের পেশার মেম্বারপাড়ার ফরমাজ আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাকিল পেশায় একজন গুনিক (ওঝা/মাহান)। তিনি বিভিন্ন প্রকার সাপ নিয়ে খেলা করতেন। গত রমজান মাসের পূর্বে তিনি একটি গোখরা সাপ ধরে এনে বাড়িতে লালন-পালন করতে থাকেন। এর একপর্যায়ে হঠাৎ ওই গোখরা সাপটি তাকে কামড় দেয়। বিষয়টি গোপন রেখে প্রথমে তিনি নিজেই সাপে কাটার বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা বুঝতে পেরে তাকে একজন অভিজ্ঞ গুনিকের (মাহান/ওঝা) নিকট নিয়ে যান। এতেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গত ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাকিলের মৃত্যু নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলেও তার পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে, হয়তো ওঝা দিয়ে ঝাঁড়-ফুক করলে শাকিলের প্রাণ ফিরে আসবে। সেই বিশ্বাসে তারা ওঝা-গুনিক নিয়ে এসে রাতভর ঝাঁড়ফুক করান। যা দেখতে এলাকাবাসীর উপচে পড়া ভিড় ছিল। কিন্তু তাদের সেই বিশ্বাস আর সত্যি প্রমাণ হয়নি। অবশেষে গতকাল ২৩ এপ্রিল বুধবার সকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাকিলকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তিনি ওঝা বা মাহানগিরি করতেন। আমি তাকে অনেকবার সাপ নিয়ে খেলা করতে দেখেছি। কিন্তু সেই সাপ খেলাই শাকিলের জীবনের ইতি টানল। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনাটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।