মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ কৃষকের সাফল্য

মো. রফিকুল ইসলাম: বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাফল্য লাভ করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় পার্টনার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় জৈব পদ্ধতিতে চিচিঙ্গা চাষ করে লাভবান হয়েছেন।

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতির মূলমন্ত্র হচ্ছে-নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ চাষাবাদে মাটি ও পানি পরীক্ষা, সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, জৈব পদ্ধতিতে পোকা-মাকড় দমন, জমির পরিচ্ছন্নতা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা
হচ্ছে।

সরজমিন দেখা গেছে, চিচিঙ্গার ক্ষেতের ভিতরে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়েছে বায়োপেস্টিসাইড, ফেরোমন ট্র্যাপ ও হলুদ আঠালো ফাঁদ। ক্ষেতের ভিতরে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বিক্রয় করার জন্য ক্ষেত থেকে পরিপক্ক চিচিঙ্গা সংগ্রহ করছেন। কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এবার আমি ২০ শতক জমিতে জৈব পদ্ধতিতে চিচিঙ্গা আবাদ করেছি। পার্টনার প্রকল্পের এ পদ্ধতি আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগে আমরা মাটি-পানির পরীক্ষা ছাড়াই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়ে ফসল চাষ করতাম। এবার সবকিছু নিয়ম মেনে করেছি। ফলনও অনেক ভালো হচ্ছে এবং খরচ তুলনামূলক কম। তাঁর উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি ভোক্তাদের নিকট সাড়া ফেলেছে। তাঁকে অনেকেই অনুসরণ করছেন আগামীতে চাষাবাদ করার জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে-এ পদ্ধতি শুধু ফলন বৃদ্ধি করে না, কৃষক ও ভোক্তা-উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যকর ও লাভজনক। এটি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আমরা কৃষকদের পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত কৃষি পদ্ধতি উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করছি। পার্টনার প্রকল্পের জৈব বালাইনাশক, ফেরোমন ট্র্যাপ ও আঠালো ফাঁদের ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষক নুরুল ইসলামের চিচিঙ্গা চাষের সফলতা উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ কৃষকের সাফল্য

প্রকাশের সময়: ১১:০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম: বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাফল্য লাভ করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় পার্টনার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় জৈব পদ্ধতিতে চিচিঙ্গা চাষ করে লাভবান হয়েছেন।

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতির মূলমন্ত্র হচ্ছে-নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ চাষাবাদে মাটি ও পানি পরীক্ষা, সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, জৈব পদ্ধতিতে পোকা-মাকড় দমন, জমির পরিচ্ছন্নতা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা
হচ্ছে।

সরজমিন দেখা গেছে, চিচিঙ্গার ক্ষেতের ভিতরে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়েছে বায়োপেস্টিসাইড, ফেরোমন ট্র্যাপ ও হলুদ আঠালো ফাঁদ। ক্ষেতের ভিতরে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন কৃষক নুরুল ইসলাম। তিনি বিক্রয় করার জন্য ক্ষেত থেকে পরিপক্ক চিচিঙ্গা সংগ্রহ করছেন। কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এবার আমি ২০ শতক জমিতে জৈব পদ্ধতিতে চিচিঙ্গা আবাদ করেছি। পার্টনার প্রকল্পের এ পদ্ধতি আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগে আমরা মাটি-পানির পরীক্ষা ছাড়াই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়ে ফসল চাষ করতাম। এবার সবকিছু নিয়ম মেনে করেছি। ফলনও অনেক ভালো হচ্ছে এবং খরচ তুলনামূলক কম। তাঁর উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি ভোক্তাদের নিকট সাড়া ফেলেছে। তাঁকে অনেকেই অনুসরণ করছেন আগামীতে চাষাবাদ করার জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে-এ পদ্ধতি শুধু ফলন বৃদ্ধি করে না, কৃষক ও ভোক্তা-উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যকর ও লাভজনক। এটি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আমরা কৃষকদের পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত কৃষি পদ্ধতি উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করছি। পার্টনার প্রকল্পের জৈব বালাইনাশক, ফেরোমন ট্র্যাপ ও আঠালো ফাঁদের ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষক নুরুল ইসলামের চিচিঙ্গা চাষের সফলতা উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।