মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সড়কবিহীন সেতু, হাজারো মানুষের ভোগান্তি

মো. রফিকুল ইসলাম : কালামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ৮ বছর ধরে সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকায় ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। সেতুটি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী গ্রামের মরিয়ম বাজারের পাশে কালামাটিয়া নদীর ওপর সড়কবিহীন
অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ মে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় অন্তত ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ৩ বছরের মধ্যেই ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটির এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যায়। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেও সড়কটির সংস্কার বা পুনরায় মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে সেতুর এক পাশে ব্যবহারযোগ্য থাকলেও অপর পাশে অন্তত ৫০-৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সাধারণ মানুষ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী সাঁকোর ওপর দিয়েই পারাপার হচ্ছেন। যা বর্ষা মৌসুমে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয় নুর ইসলাম বলেন, সেতু আছে কিন্তু চলাচলের জন্য রাস্তা নেই। এটা কতটা দূর্ভোগের বিষয়! প্রত্যেহ আমাদেরকে এ সাঁকোর ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মহিরউদ্দিন নামে আরেক গ্রামবাসী বলেন, এটি এলাকার ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। রিকশাভ্যানচালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে রিকশাভ্যান নিয়ে যাওয়া-আসা করা খুবই কষ্টকর। রিকশাভ্যানে রোগী বা মালপত্র থাকলে মাঝপথে থেমে যেতে হয়। এরপর নেমে পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। আমাদেরকে প্রত্যহই এ কষ্ট করতে হচ্ছে। আমাদের এ কষ্ট যেন কেউ দেখে না। বর্ষা মৌসুম আসলে সাঁকো দিয়েও চলাচল করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ সেতু এখন উন্নয়নের চেয়ে বেশি দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সেতুটি সরজমিন পরিদর্শন করলেও সড়কের কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এলাকাবাসী সেতুর সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনঃনির্মাণের দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের জন্য টেন্ডারের কাজ চলমান রয়েছে। টেন্ডার হলেই কাজ শুরু করা হবে।

সড়কবিহীন সেতু, হাজারো মানুষের ভোগান্তি

প্রকাশের সময়: ০৩:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম : কালামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ৮ বছর ধরে সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকায় ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। সেতুটি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী গ্রামের মরিয়ম বাজারের পাশে কালামাটিয়া নদীর ওপর সড়কবিহীন
অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ মে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় অন্তত ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ৩ বছরের মধ্যেই ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটির এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যায়। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেও সড়কটির সংস্কার বা পুনরায় মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে সেতুর এক পাশে ব্যবহারযোগ্য থাকলেও অপর পাশে অন্তত ৫০-৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সাধারণ মানুষ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী সাঁকোর ওপর দিয়েই পারাপার হচ্ছেন। যা বর্ষা মৌসুমে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয় নুর ইসলাম বলেন, সেতু আছে কিন্তু চলাচলের জন্য রাস্তা নেই। এটা কতটা দূর্ভোগের বিষয়! প্রত্যেহ আমাদেরকে এ সাঁকোর ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মহিরউদ্দিন নামে আরেক গ্রামবাসী বলেন, এটি এলাকার ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। রিকশাভ্যানচালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে রিকশাভ্যান নিয়ে যাওয়া-আসা করা খুবই কষ্টকর। রিকশাভ্যানে রোগী বা মালপত্র থাকলে মাঝপথে থেমে যেতে হয়। এরপর নেমে পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। আমাদেরকে প্রত্যহই এ কষ্ট করতে হচ্ছে। আমাদের এ কষ্ট যেন কেউ দেখে না। বর্ষা মৌসুম আসলে সাঁকো দিয়েও চলাচল করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ সেতু এখন উন্নয়নের চেয়ে বেশি দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সেতুটি সরজমিন পরিদর্শন করলেও সড়কের কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এলাকাবাসী সেতুর সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনঃনির্মাণের দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের জন্য টেন্ডারের কাজ চলমান রয়েছে। টেন্ডার হলেই কাজ শুরু করা হবে।