মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, প্রতিবেদনটিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ড. হাফিজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নিয়েছেন, আহতদের বাসায় গিয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য ফলমূল ও ওষুধ সরবরাহ করেছেন। এমনকি নিজের বিভাগের বাইরের দুইজন কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করলে তিনি অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন।

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ মোশারফ বলেন, “আমার আহত হওয়ার খবর শুনেই স্যার খোঁজখবর নিতে থাকেন। ১৬ জুলাই তিনি আমার মেসে এসে দেখা করেছেন এবং সবসময় পাশে ছিলেন।”

এছাড়া ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী—আনোয়ার ভূঁইয়া, শাহজাহান বাদশা, আয়েশী চৌধুরী, শাহরিয়ার ইমন, উদয় শংকর ভদ্র, আবু সায়েম প্রমুখ—ড. হাফিজুল ইসলামের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষক, যার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি গত বছরের ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মিটিংয়ে এবং ৪ আগস্ট নীল দলের মানববন্ধনে অংশ নেন। তবে ড. হাফিজুল ইসলামের দাবি, “১ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে অবস্থান করেছি। ৭ আগস্ট কর্মস্থলে যোগ দিই। সুতরাং এই তথ্য অসত্য।”

২০১৫ সালের নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে ধারাবাহিকভাবে তিনদিন নকল করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে সে আমার ক্লাসেই অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে। এটি তার পুনরুদ্ধার ও শিক্ষাগত অগ্রগতির উদাহরণ, শ্লীলতাহানি নয়।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক সুচনা শোভার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি’ করে ক্লাসে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগেরও তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেন, “সুচনা শোভার বেতন বন্ধ এবং যোগদানপত্র গৃহীত হয়নি জেনেই রেজিস্ট্রার বরাবর বিষয়টি জানতে চেয়েছি। এটি আমার প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ, কোনো হেয় করার উদ্দেশ্য নয়।

বর্তমানে সুচনা শোভার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশেই তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এ ধরনের সংবাদ একজন আদর্শ ও মানবিক শিক্ষকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা। তারা প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান।

 

দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

প্রকাশের সময়: ০৭:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, প্রতিবেদনটিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ড. হাফিজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নিয়েছেন, আহতদের বাসায় গিয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য ফলমূল ও ওষুধ সরবরাহ করেছেন। এমনকি নিজের বিভাগের বাইরের দুইজন কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করলে তিনি অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন।

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ মোশারফ বলেন, “আমার আহত হওয়ার খবর শুনেই স্যার খোঁজখবর নিতে থাকেন। ১৬ জুলাই তিনি আমার মেসে এসে দেখা করেছেন এবং সবসময় পাশে ছিলেন।”

এছাড়া ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী—আনোয়ার ভূঁইয়া, শাহজাহান বাদশা, আয়েশী চৌধুরী, শাহরিয়ার ইমন, উদয় শংকর ভদ্র, আবু সায়েম প্রমুখ—ড. হাফিজুল ইসলামের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষক, যার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি গত বছরের ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মিটিংয়ে এবং ৪ আগস্ট নীল দলের মানববন্ধনে অংশ নেন। তবে ড. হাফিজুল ইসলামের দাবি, “১ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে অবস্থান করেছি। ৭ আগস্ট কর্মস্থলে যোগ দিই। সুতরাং এই তথ্য অসত্য।”

২০১৫ সালের নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে ধারাবাহিকভাবে তিনদিন নকল করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে সে আমার ক্লাসেই অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে। এটি তার পুনরুদ্ধার ও শিক্ষাগত অগ্রগতির উদাহরণ, শ্লীলতাহানি নয়।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক সুচনা শোভার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি’ করে ক্লাসে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগেরও তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেন, “সুচনা শোভার বেতন বন্ধ এবং যোগদানপত্র গৃহীত হয়নি জেনেই রেজিস্ট্রার বরাবর বিষয়টি জানতে চেয়েছি। এটি আমার প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ, কোনো হেয় করার উদ্দেশ্য নয়।

বর্তমানে সুচনা শোভার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশেই তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এ ধরনের সংবাদ একজন আদর্শ ও মানবিক শিক্ষকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা। তারা প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান।