মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাকা পায়নি চেয়ারম্যান-মেম্বার, শ্রমিকদের নাম কর্তন ইজিপিপি থেকে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠছে। কেবলমাত্র টাকা না পেয়েই এ গর্হিত কাজটি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ ভুক্তভোগীরা জানান এক সংবাদ সম্মেলনে।

বুধবার দুপুর ১ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সম্মিলিত প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তালিকা থেকে বাদ পরা ১৭ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন। সম্মেলন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের সকলের বাড়ি উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকরা বলেন, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যরা যোগসাজশে শ্রমিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন। অথচ পূর্বের তালিকায় তাদের নাম আছে। বয়সও তাদের ৬০ বছরের কম। শুধুমাত্র নতুন করে টাকা না পেয়ে তারা একাজগুলো করছেন। তালিকায় তাদের নাম পুনর্বহাল রাখার জোর দাবিসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান ভুক্তভোগী শ্রমিকরা সংবাদ সম্মেলনে।

ভুক্তভোগী বিধবা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম (৪০) বলেন, আমরা আগে থেকে কাজ করি। এখন নতুন করে আমার কাছে ৭ হাজার টাকা চাইছিলো। আমি নতুন করি টাকা দিতে পারি নাই। আমার স্বামী নাই। বিদুয়া (বিধবা) মানুষ আমি। ৩ টা ছোটছোট ছাওয়া থুইয়া আমার স্বামী মারা গেইছে। মাইনসের বাড়িত কাম করি খাই। টেকা দেম নাই মুই। সেজন্যে মোর নাম বাদ দিছে। বিধবা মোর্শেদা বেগম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।

আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান (৩২) সম্মেলনে বলেন, পরিষদ চলে চেয়ারম্যানের ছেলের কথায়। বাপ-বেটা দু’জনে আমার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। দেইনি সে কারণে আমার নাম বাদ দিয়েছেন। তার নামের জায়গায় মো. জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তির নাম দিয়েছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে জানান জাহিদ হাসান।

এ বিষয়ে কথা হয় ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মন্ডলের সাথে। তিনি বলেন, আমি বা আমার ছেলে কারো কাছে টাকা চেয়েছি বা নিয়েছি এ ধরনের প্রমাণ দিতে পারলে জুতার মালা পরে গোটা সুন্দরগঞ্জ ঘুরবো। পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা এ অপবাদগুলো রটাচ্ছে বলে দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছি। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

 

টাকা পায়নি চেয়ারম্যান-মেম্বার, শ্রমিকদের নাম কর্তন ইজিপিপি থেকে

প্রকাশের সময়: ১১:২২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠছে। কেবলমাত্র টাকা না পেয়েই এ গর্হিত কাজটি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ ভুক্তভোগীরা জানান এক সংবাদ সম্মেলনে।

বুধবার দুপুর ১ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সম্মিলিত প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তালিকা থেকে বাদ পরা ১৭ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন। সম্মেলন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের সকলের বাড়ি উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকরা বলেন, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যরা যোগসাজশে শ্রমিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন। অথচ পূর্বের তালিকায় তাদের নাম আছে। বয়সও তাদের ৬০ বছরের কম। শুধুমাত্র নতুন করে টাকা না পেয়ে তারা একাজগুলো করছেন। তালিকায় তাদের নাম পুনর্বহাল রাখার জোর দাবিসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান ভুক্তভোগী শ্রমিকরা সংবাদ সম্মেলনে।

ভুক্তভোগী বিধবা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম (৪০) বলেন, আমরা আগে থেকে কাজ করি। এখন নতুন করে আমার কাছে ৭ হাজার টাকা চাইছিলো। আমি নতুন করি টাকা দিতে পারি নাই। আমার স্বামী নাই। বিদুয়া (বিধবা) মানুষ আমি। ৩ টা ছোটছোট ছাওয়া থুইয়া আমার স্বামী মারা গেইছে। মাইনসের বাড়িত কাম করি খাই। টেকা দেম নাই মুই। সেজন্যে মোর নাম বাদ দিছে। বিধবা মোর্শেদা বেগম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।

আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান (৩২) সম্মেলনে বলেন, পরিষদ চলে চেয়ারম্যানের ছেলের কথায়। বাপ-বেটা দু’জনে আমার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। দেইনি সে কারণে আমার নাম বাদ দিয়েছেন। তার নামের জায়গায় মো. জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তির নাম দিয়েছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে জানান জাহিদ হাসান।

এ বিষয়ে কথা হয় ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মন্ডলের সাথে। তিনি বলেন, আমি বা আমার ছেলে কারো কাছে টাকা চেয়েছি বা নিয়েছি এ ধরনের প্রমাণ দিতে পারলে জুতার মালা পরে গোটা সুন্দরগঞ্জ ঘুরবো। পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা এ অপবাদগুলো রটাচ্ছে বলে দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছি। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।