মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও তুলছেন বেতন-ভাতা

দিনাজপুরের খানসামায় পাকেরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সাহাদাত আলী সবুজ দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত উত্তোলন করছেন বেতন-ভাতা। ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, সাহাদাত আলী সবুজ পূর্বে উপজেলার টংগুয়া হাসনাবাগ দ্বি-মূখী ফাযিল মাদরাসায় প্রভাষক পদে চাকুরি করতেন। তিনি ২০১৬ সালের ১লা ডিসেম্বর পাকেরহাট কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। কলেজটি ২০১৮ সালের ২৫ আগস্ট সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ বন্টন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর কাজে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁর মামা এএইচ মাহমুদ আলী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হলে তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরিজীবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সাহাদাত আলী সবুজ। এ মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেআ তিনি কলেজে অনুপস্থিত। তবে নিয়মিত বেতন উত্তোলনসহ গোপনে কার্যক্রম, আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা গেছে, অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও ক্লাস না হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছেন তারা। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাধ্য-বাধকতা থাকায় এইচএসসি ১ম বর্ষের অধিকাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখা গেছে। এইচএসসি, অনার্স ও ডিগ্রি পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পরীক্ষায় কেটে যায়। অন্য সময়েও ক্লাস না পেয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে অলস সময় কাটান। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির সুযোগে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীও কলেজে অনিয়মিত উপস্থিত হন।

উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী নাইম হাসান, সিদরাতুল, কামরুজ্জামান ও লিটন ইসলাম বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অধ্যক্ষ স্যারকে আর কলেজে দেখিনি। ক্লাস না হওয়ায় কলেজে এসে সময় নষ্ট হয়। পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি ভর্তি কমিটি, ফরম পূরণ, অভ্যন্তরীণ ও ইনকোর্স পরীক্ষা এবং শৃঙ্খলাসহ সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে অধ্যক্ষ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে, জরুরি কাগজে স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ গোপনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে স্বাক্ষর নিচ্ছেন। শিক্ষক ও কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়মিত কলেজে না আসায় শ্রেণিতে পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সারাক্ষণ মোবাইলে নির্দেশনা নিতে হয়। মামলার আসামী হওয়ার পর তিনি কলেজে আসছেন না। কলেজটি সরকারি করার সময় তাঁর ভূমিকা থাকায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। এক কর্মচারী বলেন, বর্তমানে কলেজে ক্লাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। এলাকার লোকজন আমাদের নিকট প্রায়শই জবাব চায়। এব্যাপারে অধ্যক্ষ সাহাদাত আলী সবুজ মুঠোফোনে বলেন, আমি বাইরে আছি। দাপ্তরিক কাজ তো চলমান রয়েছে। এতদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ছুটিতে আছি। তবে আগস্টের পর এত দীর্ঘ সময় ছুটিতে থাকার বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমূল হক বলেন, অধ্যক্ষ সাহাদাত আলী সবুজ একজন এজাহারভূক্ত পলাতক আসামী। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক আমির আলী বলেন, কলেজ পরিদর্শন ও তদন্ত করে তারপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও তুলছেন বেতন-ভাতা

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

দিনাজপুরের খানসামায় পাকেরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সাহাদাত আলী সবুজ দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত উত্তোলন করছেন বেতন-ভাতা। ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, সাহাদাত আলী সবুজ পূর্বে উপজেলার টংগুয়া হাসনাবাগ দ্বি-মূখী ফাযিল মাদরাসায় প্রভাষক পদে চাকুরি করতেন। তিনি ২০১৬ সালের ১লা ডিসেম্বর পাকেরহাট কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। কলেজটি ২০১৮ সালের ২৫ আগস্ট সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ বন্টন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর কাজে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁর মামা এএইচ মাহমুদ আলী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হলে তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরিজীবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সাহাদাত আলী সবুজ। এ মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেআ তিনি কলেজে অনুপস্থিত। তবে নিয়মিত বেতন উত্তোলনসহ গোপনে কার্যক্রম, আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা গেছে, অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও ক্লাস না হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছেন তারা। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাধ্য-বাধকতা থাকায় এইচএসসি ১ম বর্ষের অধিকাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখা গেছে। এইচএসসি, অনার্স ও ডিগ্রি পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পরীক্ষায় কেটে যায়। অন্য সময়েও ক্লাস না পেয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে অলস সময় কাটান। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির সুযোগে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীও কলেজে অনিয়মিত উপস্থিত হন।

উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী নাইম হাসান, সিদরাতুল, কামরুজ্জামান ও লিটন ইসলাম বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অধ্যক্ষ স্যারকে আর কলেজে দেখিনি। ক্লাস না হওয়ায় কলেজে এসে সময় নষ্ট হয়। পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি ভর্তি কমিটি, ফরম পূরণ, অভ্যন্তরীণ ও ইনকোর্স পরীক্ষা এবং শৃঙ্খলাসহ সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে অধ্যক্ষ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে, জরুরি কাগজে স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেউ কেউ গোপনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে স্বাক্ষর নিচ্ছেন। শিক্ষক ও কর্মচারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়মিত কলেজে না আসায় শ্রেণিতে পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সারাক্ষণ মোবাইলে নির্দেশনা নিতে হয়। মামলার আসামী হওয়ার পর তিনি কলেজে আসছেন না। কলেজটি সরকারি করার সময় তাঁর ভূমিকা থাকায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। এক কর্মচারী বলেন, বর্তমানে কলেজে ক্লাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। এলাকার লোকজন আমাদের নিকট প্রায়শই জবাব চায়। এব্যাপারে অধ্যক্ষ সাহাদাত আলী সবুজ মুঠোফোনে বলেন, আমি বাইরে আছি। দাপ্তরিক কাজ তো চলমান রয়েছে। এতদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ছুটিতে আছি। তবে আগস্টের পর এত দীর্ঘ সময় ছুটিতে থাকার বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমূল হক বলেন, অধ্যক্ষ সাহাদাত আলী সবুজ একজন এজাহারভূক্ত পলাতক আসামী। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক আমির আলী বলেন, কলেজ পরিদর্শন ও তদন্ত করে তারপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।