গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারি জায়গা ছেড়ে না দেয়ায় হাটের উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ময়েজ মিয়ার হাটের ব্যবসায়ী মো জাহিদুল ইসলামের (৩৫) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার সকাল ১০ টার দিকে ওই হাটে গেলে বিভিন্ন ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
মো. জাহিদুল ইসলাম উপজেলা সর্বানন্দ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মো. ফুল মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে হাটের ওই জায়গাটি ছিলো মো. মোজাম্মেল হক নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার দখলে। সেখানে তিনি পাকাঘর নির্মাণ করে দলীয় কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন। পরে ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জমিসহ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গোপেন বিক্রি করে দেন হাটের মুদি ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলামের নিকট।
সম্প্রতি সময়ে উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছে হাটটির নামে। এমতাবস্থায় জাহিদুল তার পজিশন ছেড়ে না দেয়ায় হাটের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি হাট মালিক ও সাধারণ ব্যাবসায়ীদের।
হাটের খিলিপান ব্যবসায়ী মো. আবদুল জলিল মিয়া বলেন, হাটের উন্নয়নে কাজ চলছে। আমিও ডিডিআর কেটে ব্যবসা করছি। আমাকেও সরাতে বললে আমিও বাধ্য। কিন্তু জাহিদুল কিছুতেই শুনছেন না।
হাটের ইজারাদার মো. আল আমিন মিয়া বলেন, ‘আমি হাট পাওয়ার পর থেকে জাহিদুল কখনো খাজনা দেয়নি। এছাড়া হাটের উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি। সেড তৈরি করতে হবে। সে কারণে ওই ঘর অপসারণ করা দরকার। কিন্তু জাহিদুল শুনছেন না আমাদের কথা। সে কারণে হাটের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা হয় মো. জাহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, মোজাম্মেল তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে পারেনা ফার্নিচারসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের অভাবে। সে সময়ে ওই জমির পজিশন বাবদ টাকা চেয়েছিলেন আমার কাছে। রাজি হয়নি আমি। পরে মোজাম্মেল, তার স্ত্রী ও সন্তানরা আমার বাড়িতে আসে। তাদের অসহায়ত্ব আমাকে কষ্ট দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে ফার্নিচারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আমি নিজ হাতে ক্রয় করে দেই তার মেয়েকে। এরপরে তার মেয়ে শ্বশুর বাড়ি যায়। মোজাম্মেল তার কিছু দিন পরে এসে ওই জমির পজিশন আমাকে স্টাম্প করে দেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জমি সরকারের। পজিশন নিয়ে আমি ব্যাবসা করছি। সরকার চাইলে আমি দিতে বাধ্য।’
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজ কুমার বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলেও আশ্বাস দেন ইউএনও।
জাহিদ. স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















