সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেঁপে চাষে লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন কৃষকের

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের কৃষক শ্রী জ্ঞান চন্দ্র রায় (৫০)। নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করায় তার নেশা-পেশা। এরই অংশ হিসেবে এবারে আবাদ করেছেন উন্নত জাতের পেঁপে। এখান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন এই কৃষক।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের তরফ কামাল কৃষিমাঠে দেখা গেছে- সবুজের সমারোহ। এ খেতে দৃষ্টি কাড়ছে থোকা থোকা পেঁপে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের তরফ কামাল গ্রামের সূর্য চন্দ্র রায়ের ছেলে জ্ঞান চন্দ্র রায় কৃষি ফসলের উপর নির্ভশীল। এবার অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উঁচু ভূমিতে রোপন করেছেন উচ্চ ফলনশীল পেঁপে। তার দুই বিঘা এ জমিতে ৫৬০টি চারা রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে নাশিক কিং জাতের ২৮০টি এবং রেড লেডি জাতের ২৮০টি চারা রোপন করে গড়ে তুলেছেন পরিকল্পিত কৃষিপ্রকল্প। ইতোমধ্যে পেঁপেগুলো বড় হতে শুরু করেছে। এর কিছু দিন পরই এই খেত থেকে বিক্রি উপযোগি পেঁপে সংগ্রহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। বর্তমানে জ্ঞান চন্দ্র রায়ের এই পেঁপে চাষ দেখে আশপাশের বেশকিছু কৃষক অবাক হয়েছেন। ব্যাপক সাড়া ফেলছে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয় আরেক কৃষক আবু তালেব সরকার বলেন, জ্ঞান চন্দ্র রায় দাদার পেঁপে চাষ দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। ভালো ফলন ও লাভজনক হবেন নিশ্চয়। আগামী বছরে আমি এই আবাদ করব। সেইসঙ্গে কৃষিকাজকে শুধুমাত্র জীবিকা নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার করে তুলেছেন তিনি।

কৃষি উদ্যোক্তা জ্ঞান চন্দ্র রায় জানান, তার দুই বিঘাতে সবমিলে দেড় লাখ টাকা খরচ হবে। বাজারে ভালো দাম থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকা পেঁপে বিক্রি সম্ভব।

তিনি বলেন, যাদের ফসল উপযোগি জমি রয়েছে সেসব পরিবারের যুবকরা চাকুরির পেছনে না ঘুরে স্মার্ট প্রযুক্তিতে কৃষি ফসল উৎপাদন করলে অনেকটা স্বালম্বি হবেন।

স্থানীয় এটিবি ইয়ুথ ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পারভেজ মিয়া বলেন, এই পেঁপে আবাদের জন্য জ্ঞান চন্দ্র রায় দাদাকে প্রায়ই উৎসাহিত করেছি। এখন তিনি অনেকটা লাভবান হবেন। আমরা চাই এলাকার তরুণরা কৃষিতে উদ্যোক্তা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক এ প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত পেঁপে চাষ অত্যান্ত লাভজনক।  জ্ঞান চন্দ্র রায়কে লাভবান করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া তাকে অনুকরণ করতে অন্যান্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

পেঁপে চাষে লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন কৃষকের

প্রকাশের সময়: ০৯:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের কৃষক শ্রী জ্ঞান চন্দ্র রায় (৫০)। নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করায় তার নেশা-পেশা। এরই অংশ হিসেবে এবারে আবাদ করেছেন উন্নত জাতের পেঁপে। এখান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন এই কৃষক।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের তরফ কামাল কৃষিমাঠে দেখা গেছে- সবুজের সমারোহ। এ খেতে দৃষ্টি কাড়ছে থোকা থোকা পেঁপে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের তরফ কামাল গ্রামের সূর্য চন্দ্র রায়ের ছেলে জ্ঞান চন্দ্র রায় কৃষি ফসলের উপর নির্ভশীল। এবার অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উঁচু ভূমিতে রোপন করেছেন উচ্চ ফলনশীল পেঁপে। তার দুই বিঘা এ জমিতে ৫৬০টি চারা রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে নাশিক কিং জাতের ২৮০টি এবং রেড লেডি জাতের ২৮০টি চারা রোপন করে গড়ে তুলেছেন পরিকল্পিত কৃষিপ্রকল্প। ইতোমধ্যে পেঁপেগুলো বড় হতে শুরু করেছে। এর কিছু দিন পরই এই খেত থেকে বিক্রি উপযোগি পেঁপে সংগ্রহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। বর্তমানে জ্ঞান চন্দ্র রায়ের এই পেঁপে চাষ দেখে আশপাশের বেশকিছু কৃষক অবাক হয়েছেন। ব্যাপক সাড়া ফেলছে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয় আরেক কৃষক আবু তালেব সরকার বলেন, জ্ঞান চন্দ্র রায় দাদার পেঁপে চাষ দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। ভালো ফলন ও লাভজনক হবেন নিশ্চয়। আগামী বছরে আমি এই আবাদ করব। সেইসঙ্গে কৃষিকাজকে শুধুমাত্র জীবিকা নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার করে তুলেছেন তিনি।

কৃষি উদ্যোক্তা জ্ঞান চন্দ্র রায় জানান, তার দুই বিঘাতে সবমিলে দেড় লাখ টাকা খরচ হবে। বাজারে ভালো দাম থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকা পেঁপে বিক্রি সম্ভব।

তিনি বলেন, যাদের ফসল উপযোগি জমি রয়েছে সেসব পরিবারের যুবকরা চাকুরির পেছনে না ঘুরে স্মার্ট প্রযুক্তিতে কৃষি ফসল উৎপাদন করলে অনেকটা স্বালম্বি হবেন।

স্থানীয় এটিবি ইয়ুথ ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পারভেজ মিয়া বলেন, এই পেঁপে আবাদের জন্য জ্ঞান চন্দ্র রায় দাদাকে প্রায়ই উৎসাহিত করেছি। এখন তিনি অনেকটা লাভবান হবেন। আমরা চাই এলাকার তরুণরা কৃষিতে উদ্যোক্তা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক এ প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত পেঁপে চাষ অত্যান্ত লাভজনক।  জ্ঞান চন্দ্র রায়কে লাভবান করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া তাকে অনুকরণ করতে অন্যান্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।