সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাপদাহে খানসামায় বাড়ছে ডায়রিয়া-জ্বর-হিট স্ট্রোক রোগী 

গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার জনজীবন। এতে খানসামা উপজেলায় ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও শ্রমজীবি মানুষ। গত এক সপ্তাহে হঠাৎ করে গরম বৃদ্ধির কারে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ জুন বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ৬৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫ জন, জ্বরে আক্রান্ত ৩ জন ও হিট স্ট্রোকে এক জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর তুলনায় জনচল সংকট থাকলেও চিকিৎসক, নার্স-মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকেই বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলায় ডায়রিয়া, জ্বর ও হিট স্ট্রোক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রতিনিয়ত গড়ে ২৫-৩০ জন ডায়রিয়া, ৫৫-৬০ জন জ্বর ও ৫-৭ জন হিট স্ট্রোক রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। কোরবানি ঈদের পরের দিন থেকে প্রতিনিয়ত গড়ে ১৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

উপজেলার ছাতিয়ানগড় গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমার ৮ বছর বয়সী ভাতিজার হঠাৎ করে বমি-পাতলা পায়খানা শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন সে অনেকটাই সুস্থ।

পাকেরহাট এলাকার শামসুল হক (৪২) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, আমরা কর্মজীবি মানুষ। আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাই। কাজেই তীব্র গরমেও বাইরে কাজ করতে হয়। কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালের ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড ইনচার্জ বৃষ্টি রায় বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডে গড়ে প্রতিনিয়ত ১৫ জনের বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি থাকছেন। রোগীদের চাপ বৃদ্ধি পেলেও সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, বমি ও হিট স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি সর্তক ও যতœশীল থাকতে হবে। পাতলা পায়খানা শুরু হলে শিশুকে বারবার খাবার স্যালাইন ও বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোক ও পানিশুন্যতা থেকে শুরু করে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাপদাহে খানসামায় বাড়ছে ডায়রিয়া-জ্বর-হিট স্ট্রোক রোগী 

প্রকাশের সময়: ০৯:৫২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার জনজীবন। এতে খানসামা উপজেলায় ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও শ্রমজীবি মানুষ। গত এক সপ্তাহে হঠাৎ করে গরম বৃদ্ধির কারে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ জুন বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ৬৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৫ জন, জ্বরে আক্রান্ত ৩ জন ও হিট স্ট্রোকে এক জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর তুলনায় জনচল সংকট থাকলেও চিকিৎসক, নার্স-মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকেই বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলায় ডায়রিয়া, জ্বর ও হিট স্ট্রোক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রতিনিয়ত গড়ে ২৫-৩০ জন ডায়রিয়া, ৫৫-৬০ জন জ্বর ও ৫-৭ জন হিট স্ট্রোক রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। কোরবানি ঈদের পরের দিন থেকে প্রতিনিয়ত গড়ে ১৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

উপজেলার ছাতিয়ানগড় গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমার ৮ বছর বয়সী ভাতিজার হঠাৎ করে বমি-পাতলা পায়খানা শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন সে অনেকটাই সুস্থ।

পাকেরহাট এলাকার শামসুল হক (৪২) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, আমরা কর্মজীবি মানুষ। আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাই। কাজেই তীব্র গরমেও বাইরে কাজ করতে হয়। কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালের ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড ইনচার্জ বৃষ্টি রায় বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডে গড়ে প্রতিনিয়ত ১৫ জনের বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি থাকছেন। রোগীদের চাপ বৃদ্ধি পেলেও সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, বমি ও হিট স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি সর্তক ও যতœশীল থাকতে হবে। পাতলা পায়খানা শুরু হলে শিশুকে বারবার খাবার স্যালাইন ও বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোক ও পানিশুন্যতা থেকে শুরু করে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।