সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাট সীমান্তে ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইন বিএসএফের

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে এক রাতেই ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ভোরে পাটগ্রামের ঝালঙ্গী সীমান্তের ৮৪৭ নম্বর মেইন পিলার এবং আদিতমারীর দীঘলটারী সীমান্তের ৯২৬ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করে বিএসএফ।

বিজিবি জানায়, পুশইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনই শিশু। সীমান্ত পেরোনোর পর স্থানীয়দের সন্দেহে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে সংশ্লিষ্ট বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে যান।

পাটগ্রামেন ঝালঙ্গী দিয়ে পুশইন করা ব্যক্তিরা হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালথাতা গ্রামের মৃত বজলার রহমানের ছেলে আনারুল ইসলাম, আনারুলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন এবং তাদের সন্তান আব্দুর রশিদ, আরফিনা খাতুন, মুসা ইসলাম, মরিয়ম খাতুন এবং আল-আমিন।

আনারুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং হরিয়ানায়ে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে দুই সন্তান মরিয়ম ও আল-আমিনের জন্ম হয়।

দীঘলটারী সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা পরিবারটির সদস্যরা হলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ধ্বনিরাম গ্রামের মৃত বাহাল্লা মিয়ার ছেলে ওবায়দুর রহমান, স্ত্রী মাহমুদা বেগম, তাদের সন্তান মাহাবুল হাসান, মজিবর রহমান, জান্নাতী খাতুন, জাহানারা খাতুন এবং আসমা খাতুন।

ওবায়দুর রহমান জানান, ২০২০ সালের মার্চে তারা ভারতের শিলিগুড়িতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দিনমজুরের কাজ করতেন। বুধবার রাতে বিএসএফ তাদের সীমান্তে নিয়ে আসে এবং বৃহস্পতিবার ভোরে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করে । ভারতে অবস্থাকালে তাদের ছোট সন্তান আসমা খানের জন্ম হয়।

এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোলাপড়া সীমান্তের ৮৮৯ নম্বর মেইন পিলারের ১০ নম্বর সাব-পিলারের কাছে বিএসএফ আরও পাঁচজন ব্যক্তিকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করে। বর্তমানে ওই পাঁচজন ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, আটকদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে পুলিশের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএফ যে প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন করছে সেটি অবৈধ এবং আইন বহির্ভূত। পতাকা বৈঠকে আমরা একাধিকবার এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।

লালমনিরহাট সীমান্তে ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইন বিএসএফের

প্রকাশের সময়: ০৯:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে এক রাতেই ১৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ভোরে পাটগ্রামের ঝালঙ্গী সীমান্তের ৮৪৭ নম্বর মেইন পিলার এবং আদিতমারীর দীঘলটারী সীমান্তের ৯২৬ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করে বিএসএফ।

বিজিবি জানায়, পুশইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনই শিশু। সীমান্ত পেরোনোর পর স্থানীয়দের সন্দেহে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে সংশ্লিষ্ট বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে যান।

পাটগ্রামেন ঝালঙ্গী দিয়ে পুশইন করা ব্যক্তিরা হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালথাতা গ্রামের মৃত বজলার রহমানের ছেলে আনারুল ইসলাম, আনারুলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন এবং তাদের সন্তান আব্দুর রশিদ, আরফিনা খাতুন, মুসা ইসলাম, মরিয়ম খাতুন এবং আল-আমিন।

আনারুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং হরিয়ানায়ে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে দুই সন্তান মরিয়ম ও আল-আমিনের জন্ম হয়।

দীঘলটারী সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা পরিবারটির সদস্যরা হলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ধ্বনিরাম গ্রামের মৃত বাহাল্লা মিয়ার ছেলে ওবায়দুর রহমান, স্ত্রী মাহমুদা বেগম, তাদের সন্তান মাহাবুল হাসান, মজিবর রহমান, জান্নাতী খাতুন, জাহানারা খাতুন এবং আসমা খাতুন।

ওবায়দুর রহমান জানান, ২০২০ সালের মার্চে তারা ভারতের শিলিগুড়িতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দিনমজুরের কাজ করতেন। বুধবার রাতে বিএসএফ তাদের সীমান্তে নিয়ে আসে এবং বৃহস্পতিবার ভোরে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করে । ভারতে অবস্থাকালে তাদের ছোট সন্তান আসমা খানের জন্ম হয়।

এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোলাপড়া সীমান্তের ৮৮৯ নম্বর মেইন পিলারের ১০ নম্বর সাব-পিলারের কাছে বিএসএফ আরও পাঁচজন ব্যক্তিকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করে। বর্তমানে ওই পাঁচজন ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, আটকদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে পুলিশের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএফ যে প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন করছে সেটি অবৈধ এবং আইন বহির্ভূত। পতাকা বৈঠকে আমরা একাধিকবার এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।