শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় ধানচারা দাম চড়া, বিপাকে কৃষক

গাইবান্ধা জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন চারা রোপণের কাজ। তবে নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা চারা সংকটে পড়ছেন। আর উঁচু এলাকার কৃষকের উদ্বৃত্ত চারাগুলো হাটে তোলা হলেও তা দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। প্রতিপোন চারা (২০ গোন্ডা) কেনাবেচা হচ্ছে- ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে চারা ক্রেতাদের অভিযোগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার কামদিয়া, ভরতখালী, দাড়িয়াপুর, সাদুল্লাপুর ও মীরপুর, হাটে গিয়ে দেখা গেছে- আমন ধানচারা অধিক দামের কেনাবেচার দৃশ্য। এসময় বেশ কিছু দালাল চক্র কৃষকদের চারা কেনাবেচা করে দেওয়ার নামে পকেটস্থ করছে টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত রোপা আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৪০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জন ১ লাখ ২১ হেক্টর। আর ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর বীজতলার উৎপাদিত চারা দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কথা। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা আমন ধান আবাদ করলেও তারা কখনও চারা উৎপাদন করেন না। উঁচু এলাকার কৃষকদের উদ্বৃত্ত চারা কিনে রোপণ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি হওয়ায় হাট-বাজারে চারার দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু এলাকার কৃষকরা রিকশাভ্যান ও বাইসাকেল যোগে বস্তাভর্তি করে ধানের চারা এনে ওইসব হাটে বিক্রি করেছেন। আর ক্রেতারা মান যাচাই ও জাত নির্ণয়ে চাহিদা মতো চারা কিনছেন। রীতিমত সেখান থেকে অধিকা দামে চারা কিনে নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন।

ধাপের হাটে চারা বিক্রেতা আব্দুল বলেন, আমার জমির বীজতলায় চারা উৎপাদন করা হয়। নিজের জমিতে চারা লাগানো হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৬ পোন চারা ৬ হাজার ৬০০ হাজার টাকায় হাটে বিক্রি করলাম। যার এই এছাড়া প্রতিপোন চারা বিক্রি বাবদ ২৫ টাকা হারে ইজারাদারকে দিতে হয়েছে।

কামারজানি চর এলাকার চারা কিনতে নবির উদ্দিন বলেন, এ বছরে ৩ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আমরা কখনও চারা উৎপাদন করি না। উঁচু এলাকা থেকে চারা কিনে আবাদ করে থাকি। এ বছর প্রতিপোন চারা ১ হাজার ৫০ টাকা দরে কিনেছি। গত বছরের প্রতিপোন চারার দাম ছিল ৩০০ টাকা। এবছর চারার দাম তিনগুন হওয়ায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব না।

নিজের জমি না থাকায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তির ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন বলে জানালেন কৃষক জহুরুল খান। সেই জমিতে রোপন করতে ৬ হাজার টাকা দিয়ে চারা কিনেছেন। এভাবে চড়া দামে চারা-সার কিটনাশক কিনে আবাদ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানান, এ বছর নিম্নঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি থাকায় হাটে অধিক দামে চারা বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের লাভবান করতে চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভালো ফলন পেতেও সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় ধানচারা দাম চড়া, বিপাকে কৃষক

প্রকাশের সময়: ০৫:৪০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

গাইবান্ধা জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন চারা রোপণের কাজ। তবে নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা চারা সংকটে পড়ছেন। আর উঁচু এলাকার কৃষকের উদ্বৃত্ত চারাগুলো হাটে তোলা হলেও তা দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। প্রতিপোন চারা (২০ গোন্ডা) কেনাবেচা হচ্ছে- ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে চারা ক্রেতাদের অভিযোগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার কামদিয়া, ভরতখালী, দাড়িয়াপুর, সাদুল্লাপুর ও মীরপুর, হাটে গিয়ে দেখা গেছে- আমন ধানচারা অধিক দামের কেনাবেচার দৃশ্য। এসময় বেশ কিছু দালাল চক্র কৃষকদের চারা কেনাবেচা করে দেওয়ার নামে পকেটস্থ করছে টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত রোপা আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৪০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জন ১ লাখ ২১ হেক্টর। আর ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর বীজতলার উৎপাদিত চারা দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কথা। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা আমন ধান আবাদ করলেও তারা কখনও চারা উৎপাদন করেন না। উঁচু এলাকার কৃষকদের উদ্বৃত্ত চারা কিনে রোপণ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি হওয়ায় হাট-বাজারে চারার দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু এলাকার কৃষকরা রিকশাভ্যান ও বাইসাকেল যোগে বস্তাভর্তি করে ধানের চারা এনে ওইসব হাটে বিক্রি করেছেন। আর ক্রেতারা মান যাচাই ও জাত নির্ণয়ে চাহিদা মতো চারা কিনছেন। রীতিমত সেখান থেকে অধিকা দামে চারা কিনে নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন।

ধাপের হাটে চারা বিক্রেতা আব্দুল বলেন, আমার জমির বীজতলায় চারা উৎপাদন করা হয়। নিজের জমিতে চারা লাগানো হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৬ পোন চারা ৬ হাজার ৬০০ হাজার টাকায় হাটে বিক্রি করলাম। যার এই এছাড়া প্রতিপোন চারা বিক্রি বাবদ ২৫ টাকা হারে ইজারাদারকে দিতে হয়েছে।

কামারজানি চর এলাকার চারা কিনতে নবির উদ্দিন বলেন, এ বছরে ৩ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আমরা কখনও চারা উৎপাদন করি না। উঁচু এলাকা থেকে চারা কিনে আবাদ করে থাকি। এ বছর প্রতিপোন চারা ১ হাজার ৫০ টাকা দরে কিনেছি। গত বছরের প্রতিপোন চারার দাম ছিল ৩০০ টাকা। এবছর চারার দাম তিনগুন হওয়ায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব না।

নিজের জমি না থাকায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তির ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন বলে জানালেন কৃষক জহুরুল খান। সেই জমিতে রোপন করতে ৬ হাজার টাকা দিয়ে চারা কিনেছেন। এভাবে চড়া দামে চারা-সার কিটনাশক কিনে আবাদ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানান, এ বছর নিম্নঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি থাকায় হাটে অধিক দামে চারা বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের লাভবান করতে চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভালো ফলন পেতেও সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।