তোফায়েল হোসেন জাকির: পারিবারিক কলহ আর হতাশাসহ বিভিন্ন কারনে গাইবান্ধা জেলায় গত এক সপ্তাহে ১৫ জনের মৃত্যু খরব পাওয়া গেছে। স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন ও প্রেম ব্যর্থতায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্নহত্যার ঘটনাও রয়েছে।
সম্প্রতি এসব ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন প্রান্তরে। এ ধরণের অস্থির সমাজে বসবাস করে চরম অস্বস্তিতে ভুগছেন মানুষরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর কাটাবাড়ি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ফরিদুল ইসলাম নামের ব্যক্তি তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিউলী বেগমকে পা ও গলা কেটে খুন করেছে। পলাশবাড়ী উপজেলায় শাহিনা বেগম নিজে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে আত্নহত্যা করেন। আর সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আনোয়ারুল ইসলাম নামের জুলাই যোদ্ধার মৃত্যু হয়। সাদুল্লাপুর উপজেলায় বৃদ্ধা রমিচা বেওয়ার লাশ ভাসছিল পুকুরে।
এদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ফয়েজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। এরপর দেনমোহর ও ভরণপোষণ মামলার মানসিক চাপে গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেস্বর) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেন। এছাড়া পারিবারিক অশান্তির কারনে ফাঁস দিয়ে সোলাইমান মিয়াও আত্নহত্যা করেছেন। একই দিনে অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে আরিফুল ইসলাম নামের যুকের মৃত্যু হয়। আর সাদুল্লাপুর উপজেলায় বজ্রপাতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার স্কুল শিক্ষিকার তাসমিন আরা নাজ নদীতে ঝাঁপিয়ে আত্নহত্যা করেন। জীবনের প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি আত্নহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার তুলশীঘাট নামকস্থানে বাসের ধাক্কায় রিপন মিয়া নামের এক যুবক নিহত হন। ১৩ সেপ্টেম্বর নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গার একটি পুকুর থেকে এক ব্যক্তির মরহেদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরে পানিতে ডুবে আদুরী আক্তার নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কালিতলা নামক এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইদিনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাবার সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নদীতে ডুবে লাবিব খান লাবু নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।
সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, সামাজিক-পারিবারিক মূল্যবোধ ও অসেচতনতার কারনে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় খুন-আত্নহত্যাসহ নানা ধরণের অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। অস্থির এই সমাজে অনিরাপদে বসবাস করতে হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সবার মাঝে সম্প্রীতি তৈরি ও সচেতনতা বৃদ্ধির দরকার।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা সভায় গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত এ্যাঞ্জেলা বলেছেন, মানুষের মাঝে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, হতাশায় আর ধৈর্য্য কমে যাওয়ায় হত্যা ও আত্নহত্যার এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের বাসিন্দাদের সচেতন হওয়া আবশ্যক।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 



















