দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ট্রাক্টর-অটোরিকশার মুখোমুখী সংঘর্ষে খালিদ মোহাম্মদ নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো দীর্ঘ ৪ ঘন্টাব্যাপি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ট্রাক্টরচালককে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে। উপজেলা প্রশাসন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ট্রাক্টর চালককে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকালে উপজেলার আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর-পার্বতীপুর আঞ্চলিক সড়কের ঘুঘুরাতলী মোড়ে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করে। অবরোধের ফলে সড়কের উভয়দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়েন ওই সড়কে চলাচলরত সাধারণ যাত্রীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দিনের বেলা ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ ও দূর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাক্টরচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেহা তুজ জোহরার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আহসান হাবীবসহ থানা পুলিশ অবরোধ স্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে দিনের বেলা ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে ট্রাক্টরচালককে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেন। এতে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হয়ে দুপুর দেড়টায় ৪ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
গত ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছিল। প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আজও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
উল্লেখ্য গত ১২ জানুয়ারি সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামের ক্লাবের মোড় নামক স্থানে একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী খালিদ মোহাম্মদ (১৬), শিক্ষকসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রথমে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর আহত খালিদ মোহাম্মদকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















