মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবা নারীর কাঁচা ধান কেটে নিলেন প্রতিপক্ষ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাভলী বেগম (৩৮) নামের এক বিধবা নারীর রোপণ করা কাঁচা আমন ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

ভুক্তভোগী মোছাঃ লাভলী বেগম সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারায় গ্রামের মৃত ফয়জার রহমানের স্ত্রী ও নয়াব উদ্দিনের মেয়ে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি গত সোমবারে পেয়েছি। এর পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী লাভলী বেগম ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৭০০১ নম্বর দলিলমূলে সোনারায় মৌজায় ১৭ দশমিক ৫ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি। তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রতিবেশী মৃত ইছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী (৬০) ও আবুল কালাম (৫৫)সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে।

বিরোধের জেরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় ৩৫২/২০২৬ নম্বর পিটিশন মামলা করেন লাভলী বেগম। একই জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতেও অন্য ৪৪৩/২০২৬ নম্বরে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

লাভলী বেগমের অভিযোগ, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় গত সোমবার সকালে আব্দুল বারী ও আবুল কালাম ভাড়াটিয়া লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তার জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে আবাদ করা পাকা আমন ধান কেটে নিয়ে যান তারা। এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা লাঠি ও কাস্তে উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গত ২৪ আগস্ট গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি আদেশ দেন। এতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নালিশি জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জমির দখল বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। উভয় পক্ষকে আদালতে হাজির হয়ে জমির নিজ নিজ দখলের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত বক্তব্য দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বারী বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমি আমার পৈতৃক। ধান পাকায় আমরা কেটেছি। লাভলী বেগম আমাদের নামে বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন।’

সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নিতে বিধবা নারীর কাঁচা ধান কেটে নিলেন প্রতিপক্ষ

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাভলী বেগম (৩৮) নামের এক বিধবা নারীর রোপণ করা কাঁচা আমন ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

ভুক্তভোগী মোছাঃ লাভলী বেগম সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারায় গ্রামের মৃত ফয়জার রহমানের স্ত্রী ও নয়াব উদ্দিনের মেয়ে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি গত সোমবারে পেয়েছি। এর পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী লাভলী বেগম ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৭০০১ নম্বর দলিলমূলে সোনারায় মৌজায় ১৭ দশমিক ৫ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি। তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রতিবেশী মৃত ইছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী (৬০) ও আবুল কালাম (৫৫)সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে।

বিরোধের জেরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় ৩৫২/২০২৬ নম্বর পিটিশন মামলা করেন লাভলী বেগম। একই জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতেও অন্য ৪৪৩/২০২৬ নম্বরে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

লাভলী বেগমের অভিযোগ, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় গত সোমবার সকালে আব্দুল বারী ও আবুল কালাম ভাড়াটিয়া লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তার জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমিতে আবাদ করা পাকা আমন ধান কেটে নিয়ে যান তারা। এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা লাঠি ও কাস্তে উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে গত ২৪ আগস্ট গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি আদেশ দেন। এতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নালিশি জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জমির দখল বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। উভয় পক্ষকে আদালতে হাজির হয়ে জমির নিজ নিজ দখলের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত বক্তব্য দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বারী বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমি আমার পৈতৃক। ধান পাকায় আমরা কেটেছি। লাভলী বেগম আমাদের নামে বারবার মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন।’