স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে হলে ভারতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ভারত এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ দেশ। একটি স্থিতিশীল এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে হলে ভারতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা যদি পরস্পরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তাহলে আমাদের জনগণের উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দশ দিনের আয়োজনের ১০ম দিনের অনুষ্ঠানে শুক্রবার (২৬ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আজকের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো উন্মোচন করা হয়। সুবর্ণজয়ন্তীর লোগোর কনসেপ্ট ও ডিজাইন করেছেন রামেন্দ্র মজুমদার ও প্রদীপ চক্রবর্তী।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারত সুখে দুখে সব সময় পাশে রয়েছে। ভারত শুধু প্রতিবেশি বন্ধু রাষ্ট্র নয়। ভারতের সাথে আমাদের রয়েছে ঐতিহাসিক, সামাজিক, ঐতিহ্যগত এবং ভৌগলিক সেতুবন্ধন রয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে সামনে এগিয়ে যাব। একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি- ভারতীয়রা দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের বিষয়ে সমসময় একমত পোষণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র দেওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ-ভারত মিত্র বাহিনীর যৌথ বাহিনীর অভিযানে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এসব কোন ভুলবার নয়। কৃতজ্ঞতার সাথে সারাজীবন স্মরণ করি।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়, তখন আমি দিশেহারা হয়ে যাই। কোথায় যাব এসব চিন্তা করে। সেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ে আমরা দিল্লিতে দীর্ঘদিন ছিলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রতিবেশি সবার আগে’ এই নীতিতে বিশ্বাসী। সবার আগে বাংলাদেশকে টিকা দেওয়ায় সেই নীতি প্রতিফলিত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আমরা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছি। গত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।
দক্ষিণ এশিয়াকে উন্নত-সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, ভেদাভেদ ভুলে আমরা জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরীতা নয়। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলকে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
জাগো২৪.নেট ডেস্ক 















