দ্বিতীয় বারের মতো দেশে আবারো মহামারী আকারে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়লেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বেশির ভাগ মানুষের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। কেটে যাচ্ছে ভয় ভীতি। সরকার মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করলেও স্থানীয়দের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্য বিধি নেই বললেই চলে। অল্পসংখ্যক মানুষ মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন।
শনিবার (০৩ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাট মীরগঞ্জে গিয়ে ক্রেতা,বিক্রেতা, সকল প্রকার দোকানী, ভ্যান রিক্সা চালক, সাধারণ মানুষজনের কাছে মাস্ক ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাইলে বেশির ভাগ মানুষই বলেন, গরম লাগে’, ‘নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে’, মনে নেই, হামার করোনার ভয় নাই, বাড়িত হামার মেলা গুলা মাছ আছে (মাস্ক) সাথে আনবের মনে নাই, কাইলকে থাকি পরমো এলা বলে নানা অজুহাত দেন।
অপরদিকে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, একটা মাস্ক কিনতে ১০ থেকে ১৫ টাকা লাগে কিন্তু মুখে দিতে না দিতেই ছিড়ে যাচ্ছে। তাই সরকারকে এই দিকেও একটু খেয়াল রাখা দরকার।
ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ লোকের মুখে মাস্ক নেই। কেউ কেউ ব্যবহার করলেও তা ঝুলছে থুতনিতে, কেউবা কানে রেখেছেন কেউবা পকেটে। তাদের কাছে স্বাস্থ্যবিধির তো কোন বালাই নেই।
সবজি বাজারের আরমান হোসেন বলেন, মাস্ক পরলে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, তাই খুলে রাখছি। পকেটে আছে।
এছাড়াও হাত ধোয়া বেসিন বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের কড়াকড়ি থেকেও সরে এসেছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের তীব্রতাও যেন জনগণের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি। জনসমাগম ঘটে এমন বেশকিছু স্থান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে, একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে উপজেলার, সর্বানন্দ, বেলকা, দহবন্দ, শান্তিরাম, বামনডাঙ্গা,রামজীবন সহ বিভিন্ন এলাকায়। করোনা সংক্রমণ বাড়লেও উপজেলার গণপরিবহণে একেবারেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীদের কারো কারো মুখে মাস্ক থাকলেও নেই চালক-হেলপারের মুখে। সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষেধ থাকলেও বেশির ভাগ বাসে গাদাগাদি করে চলাচল করছে মানুষ। শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না কোথাও। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসে ওঠার আগে যাত্রীদের স্যানিটাইজার দেওয়ার কথা থাকলেও তা কোথাও মানা হচ্ছে না
স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৯৪ জন কোভিড-১৯ -এ আক্রান্ত হয়েছেন, সুস্থ হয়েছেন ৯৩ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রতিটি মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের অজ্ঞতা রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ- আল- মারুফ বলেন,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম জনসচেতনতা মূলক প্রচার- প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
বিপুল ইসলাম আকাশ সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ 















