সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গরম বাতাসে শেরপুরে বোরো ধানের ক্ষতি

গত রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আচমকা শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। দমকা হওয়ার সঙ্গে বয়ে যায় গরম বাতাস। সেই গরম বাতাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শেরপুরের কৃষকদের স্বপ্ন। জেলার প্রতিটি উপজেলার বোরো ধান চষীদের এখন মাথায় হাত।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরে ১৮৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে জেলা সদরের ১৫ হেক্টর, শ্রীবরদী উপজেলায় ৩২ হেক্টর, ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৫০ হেক্টর, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৪৫ হেক্টর ও নকলা উপজেলায় ৩৮ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। পুরো জেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ৬শ ৫ হেক্টর জমিতে।

এদিকে ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ফসল পর্যবেক্ষণ করেছেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুর (ব্রি)-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. পান্না আলী। তার সঙ্গে ছিলেন উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরিন আক্তার জাহান, উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হীরেন্দ্র নাথ বর্মণসহ অন্যান্যরা।

ঝিনাইগাতী উপজেলার জামতলী এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় গরম বাতাসে বাহিরে থাকা যায়নি। ঘরেও খালি গায়ে থাকতে কষ্ট হয়েছে। এ গরম বাতাসে আমাদের বোরো ধান সব শেষ। এখন আমরা সারা বছর কি খাবো তা নিয়ে ভাবছি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাস হওয়ায় উপজেলার নলকুড়া, রাংটিয়া, ডেফলাই, কাংশা, নওকুচি, গান্ধীগাঁও, জামতলী, হালচাটি, বগাডুবি এলাকার ৫০ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। জেগুলোতে শীষ এসেছে সেগুলো চিটায় পরিণত হয়ে সাদা হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে কিনা, নিরুপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।

ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট (ব্রি)-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ পান্না আলী বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের আহ্বানে আমরা একটি পর্যবেক্ষণ দল এসেছিলাম। পর্যবেক্ষণ শেষে ও কৃষকদের ভাষ্যমতে, কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে ৩৭ থেকে ৪০ তাপমাত্রার গরম বাতাস হওয়ার কারণে ধান শীষগুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, আসলে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের কিছুই দেয়ার নেই। তবে কোন প্রণোদনা আসলে তাদেরকে আমরা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো।

গরম বাতাসে শেরপুরে বোরো ধানের ক্ষতি

প্রকাশের সময়: ০৮:৪২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ এপ্রিল ২০২১

গত রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আচমকা শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। দমকা হওয়ার সঙ্গে বয়ে যায় গরম বাতাস। সেই গরম বাতাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শেরপুরের কৃষকদের স্বপ্ন। জেলার প্রতিটি উপজেলার বোরো ধান চষীদের এখন মাথায় হাত।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরে ১৮৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে জেলা সদরের ১৫ হেক্টর, শ্রীবরদী উপজেলায় ৩২ হেক্টর, ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৫০ হেক্টর, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৪৫ হেক্টর ও নকলা উপজেলায় ৩৮ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। পুরো জেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ৬শ ৫ হেক্টর জমিতে।

এদিকে ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ফসল পর্যবেক্ষণ করেছেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুর (ব্রি)-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. পান্না আলী। তার সঙ্গে ছিলেন উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরিন আক্তার জাহান, উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হীরেন্দ্র নাথ বর্মণসহ অন্যান্যরা।

ঝিনাইগাতী উপজেলার জামতলী এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যায় গরম বাতাসে বাহিরে থাকা যায়নি। ঘরেও খালি গায়ে থাকতে কষ্ট হয়েছে। এ গরম বাতাসে আমাদের বোরো ধান সব শেষ। এখন আমরা সারা বছর কি খাবো তা নিয়ে ভাবছি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাস হওয়ায় উপজেলার নলকুড়া, রাংটিয়া, ডেফলাই, কাংশা, নওকুচি, গান্ধীগাঁও, জামতলী, হালচাটি, বগাডুবি এলাকার ৫০ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। জেগুলোতে শীষ এসেছে সেগুলো চিটায় পরিণত হয়ে সাদা হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে কিনা, নিরুপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।

ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট (ব্রি)-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ পান্না আলী বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের আহ্বানে আমরা একটি পর্যবেক্ষণ দল এসেছিলাম। পর্যবেক্ষণ শেষে ও কৃষকদের ভাষ্যমতে, কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে ৩৭ থেকে ৪০ তাপমাত্রার গরম বাতাস হওয়ার কারণে ধান শীষগুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, আসলে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের কিছুই দেয়ার নেই। তবে কোন প্রণোদনা আসলে তাদেরকে আমরা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো।