দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আর রমজান মাস ঘিরে বাজারে বেড়ে যায় খেজুরের চাহিদা। এই সুযোগে ভোক্তা ঠকানোর ফাঁদ পেতেছে রংপুরের কিছু অসাধু খেজুর ব্যবসায়ী। খেজুর চমকপ্রদ ও স্বাদ বাড়াতে মেশানো হচ্ছে মিষ্টির সিরা ও সরিষার তেল। এ ছাড়া সদ্য আমদানিকৃত খেজুরের সঙ্গে পুরাতন খেজুর মিশিয়ে করা হচ্ছে বাজারজাত। এতে করে নিম্নমানের খেজুরে সয়লাব হয়ে গেছে রংপুরের বাজারগুলো।
অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা খুচরাপর্যায়ে কম খেজুর সরবরাহ করে তৈরি করছে কৃত্রিম সংকট। বিক্রি করছে বাড়তি দরে। ফলে রোজার আগেই খেজুরের দাম হু হু করে বাড়ছে।
রোববার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে নগরীর সিটি বাজারে দেখা যায়, বিভিন্ন দেশ থেকে নিম্নমানের খেজুর আমদানি করে বস্তা ভরে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এসব খেজুরের বস্তার গা ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে। বস্তায় নেই কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ। এছাড়া এ নিম্নমানের খেজুরগুলোর স্বাদ ও চকচকা করতে মিষ্টির সিরা ও সরিষার তেল মেশানো হচ্ছে।
সিটি বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, বাজারের সবচেয়ে কম দামের জাহেদি খেজুর কিছুদিন আগেও ১২০-১৩০ টাকা ছিল। এখন তার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। এ ছাড়া ধাবাস খেজুরও ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়। নাগাল খেজুরসহ বিভিন্ন মানের আম্বার, আজোয়া, মরিয়ম খেজুরও আগের চেয়ে দাম বেড়ে ৫৫০-১০০০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে নিম্নমানের খেজুর বিক্রির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, সমাজে গরিব-ধনী সব ধরনের মানুষ রয়েছে। কেউ টাকার অভাবে ভালো খেজুর কিনতে পারে না, তাই তারা নিম্নমানের খেজুর কিনে। তাই চাহিদা থাকায় বিক্রিও হয়।
রংপুর ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা বেলাল আহমেদ বলেন, ‘করোনার এই মুহূর্তে নগরবাসীকে নিরাপদ খাবার পৌঁছে দিতে ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে রমজানের আগেই বাজার তদারকি এবং অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল ইসলাম মৃধা জানান, পবিত্র রমজানে কেউ যদি অস্বাস্থ্যকর খেজুর আমদানি বা বিক্রি করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি খেজুর জব্দ করে ধ্বংস করা হবে।
তিনি আরও জানান, রংপুর বাসীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, রংপুর 















