সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 চৈত্রসংক্রান্তিতে কদর নেই পাট শাকের

চৈত্রসংক্রান্তির দিনে হাট-বাজারে পাট শাকের আমদানি হয় প্রচুর। তেমনি চাহিদাও থাকে অনেক বেশী। কিন্তু এ বছর তা ব্যর্তয় ঘটেছে। বৈশাখের প্রথম দিনে পবিত্র মাহে রমজান ও করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন শুরু হওয়ায় কদর কমেছে পাট শাকের।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে গাইবান্ধার নাগবাড়ী বাজারে অলস সময় পার করতে দেখা যায় পাট শাখ বিক্রেতাদের। এসময় গ্রাহক শূণ্য বসে ছিলেন শাক বিক্রেতা নাহিত হাসান।

জানা যায়, পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালির সার্বজনীন লোকউৎসব। এ ‍উৎসকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় নানা আয়োজন। এর মধ্যে পান্তা ভাতের সঙ্গে পাট শাক খাওয়ার ধুম পড়ে প্রত্যেকটি বাসা-বাড়িতে। অনেক আগে থেকেই পাট শাক খাওয়ার রীতি চলে আসলেও, এবছর ভাটা পড়েছে এ রীতিতে। পহেলা বৈশাখের সূর্য উঠার সাথেই বাঙালির পাতে পড়বে না পান্তাভাত আর পাটশাক। কারণ, চৈত্রসংক্রান্তির রাতে রোজা রাখার জন্য খেতে হবে সেহরি। রোজা মুখে দেখতে হবে পহেলা বৈশাখের সূর্য। একই সঙ্গে মানতে হবে সরকারি লকডাউন। তাই বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে পাটশাক খাওয়ার ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও, সেটি এ বছর সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যমান পরিস্থির প্রভাব পড়েছে গাইবান্ধার পাট চাষিদের উপর।পহেলা বৈশাখকে পুঁজি করে অধিক লাভের আশায় জেলার কৃষকরা আবাদ করছিলেন পাট শাকের। কিন্ত একই দিনে পবিত্র মাহে রমজান ও দেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় পাট শাকের প্রতি আগ্রহ নেই অনেকের। যার ফলে অতি লোকশানের হিসাব গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

নাগবাড়ী বাজারে তরকারি কিনতে আসা লুৎফর রহমান জানান, চৈত্রসংক্রান্তিতে বাজারে মূল আকর্ষণ পাট শাক। কিন্ত পহেলা বৈশাখে রোজা শুরু হবে মর্মে পাট শাক না কিনে রমজান উপলক্ষে অন্যান্য সবজি কিনতে হয়েছে।

কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, নিজস্ব ভিটা জমিতে নানা ধরণের শাক-সবজি উৎপাদন করা হয়। আর পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আবাদ করা হয় পাট শাক। যা বিক্রি করে অনেকটাই লাভবান হওয়া যায়। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরে পাট শাক করে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে। একই দিনে রোজা ও লকডাউন শুরুর কারণে পাট শাক অবিক্রিত হচ্ছে। এতে করে আর্থিক ক্ষতির হিসাব কষতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ১০৫ হেক্টর জমিতে পাট শাক আবাদ করছে কৃষকরা। তবে পহেলা বৈশাখের দিনে রোজা শুরু হওয়া কিছুটা লাভ কম হতে পারে কৃষকদের।

 

 

 চৈত্রসংক্রান্তিতে কদর নেই পাট শাকের

প্রকাশের সময়: ০৮:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

চৈত্রসংক্রান্তির দিনে হাট-বাজারে পাট শাকের আমদানি হয় প্রচুর। তেমনি চাহিদাও থাকে অনেক বেশী। কিন্তু এ বছর তা ব্যর্তয় ঘটেছে। বৈশাখের প্রথম দিনে পবিত্র মাহে রমজান ও করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন শুরু হওয়ায় কদর কমেছে পাট শাকের।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে গাইবান্ধার নাগবাড়ী বাজারে অলস সময় পার করতে দেখা যায় পাট শাখ বিক্রেতাদের। এসময় গ্রাহক শূণ্য বসে ছিলেন শাক বিক্রেতা নাহিত হাসান।

জানা যায়, পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালির সার্বজনীন লোকউৎসব। এ ‍উৎসকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় নানা আয়োজন। এর মধ্যে পান্তা ভাতের সঙ্গে পাট শাক খাওয়ার ধুম পড়ে প্রত্যেকটি বাসা-বাড়িতে। অনেক আগে থেকেই পাট শাক খাওয়ার রীতি চলে আসলেও, এবছর ভাটা পড়েছে এ রীতিতে। পহেলা বৈশাখের সূর্য উঠার সাথেই বাঙালির পাতে পড়বে না পান্তাভাত আর পাটশাক। কারণ, চৈত্রসংক্রান্তির রাতে রোজা রাখার জন্য খেতে হবে সেহরি। রোজা মুখে দেখতে হবে পহেলা বৈশাখের সূর্য। একই সঙ্গে মানতে হবে সরকারি লকডাউন। তাই বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে পাটশাক খাওয়ার ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও, সেটি এ বছর সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যমান পরিস্থির প্রভাব পড়েছে গাইবান্ধার পাট চাষিদের উপর।পহেলা বৈশাখকে পুঁজি করে অধিক লাভের আশায় জেলার কৃষকরা আবাদ করছিলেন পাট শাকের। কিন্ত একই দিনে পবিত্র মাহে রমজান ও দেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় পাট শাকের প্রতি আগ্রহ নেই অনেকের। যার ফলে অতি লোকশানের হিসাব গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

নাগবাড়ী বাজারে তরকারি কিনতে আসা লুৎফর রহমান জানান, চৈত্রসংক্রান্তিতে বাজারে মূল আকর্ষণ পাট শাক। কিন্ত পহেলা বৈশাখে রোজা শুরু হবে মর্মে পাট শাক না কিনে রমজান উপলক্ষে অন্যান্য সবজি কিনতে হয়েছে।

কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, নিজস্ব ভিটা জমিতে নানা ধরণের শাক-সবজি উৎপাদন করা হয়। আর পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আবাদ করা হয় পাট শাক। যা বিক্রি করে অনেকটাই লাভবান হওয়া যায়। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরে পাট শাক করে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে। একই দিনে রোজা ও লকডাউন শুরুর কারণে পাট শাক অবিক্রিত হচ্ছে। এতে করে আর্থিক ক্ষতির হিসাব কষতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ১০৫ হেক্টর জমিতে পাট শাক আবাদ করছে কৃষকরা। তবে পহেলা বৈশাখের দিনে রোজা শুরু হওয়া কিছুটা লাভ কম হতে পারে কৃষকদের।