মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে দুধ নিয়ে বিপাকে গো-খামারিরা

‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গো-খামারিরা দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এমনিতেই গত বছর থেকে নানা সমস্যায় পড়েছেন গরুর খামারিরা। আর এখন প্রথম দফায় ৭দিনের পর দ্বিতীয় দফার এই সর্বাত্মক লকডাউনে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকেই এ শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি। গত বছর করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে ক্রমাগত গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সে অনুপাতে দুধের মূল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন খামারিরা।

এছাড়াও উচ্চমূল্যে কেনা অধিকাংশ গো-খাদ্যে রয়েছে ভেজাল। যা খাওয়ানোর পর নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু। চাহিদা মোতাবেক ডাক্তার না থাকায় রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত কমছে দুধের উৎপাদন। প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে গাভীগুলো। অনেক খামারি তাদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন গাভীগুলো রোগাক্রান্ত হওয়ায় স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় তারা চলতি বছর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন খামারিরা। খামারিরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সরকারের প্রণোদনা ঋণ নিতে গেলেও উল্টো হয়রানি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। এ কারণেই চরম হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছেন এখানকার সমবায় ভিত্তিক খামারিরা।

উপজেলা ডেইরী মিল্ক এসোসিয়েশনের সম্পাদক ও খামারি মো. আনিসুল হক বলেন, এই করোনার কারণে ভালো নেই আমাদের গো-খামারিরা। প্রতিদিন উপজেলার ছোট বড় প্রায় ১হাজার ১৮৭টি খামার থেকে বছরে ২১ হাজার ৩৩৩ মে.টন ও মাসে ১হাজার ৭৭৭ মে.টন লিটার দুধ উৎপাদন হয়। খামারের দুধ জেলার বিভিন্ন হোটেল ও মিষ্টির দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত ৯ দিন ধরে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল না করায় নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার অনেকে দাম না পেয়ে রাস্তায়ও ফেলে দিচ্ছে। বর্তমান করোনার জন্য ন্যায্য মূল্যে দুধ বিক্রি করতে পারছি না। গত বছরে যে লোকসান হয়েছে, এ বছরে তার চেয়েও বেশি লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি। আমরা হয়তো আর খামার চালাতে পারবো না। আপদকালীন সময়ে উপজেলার ৩টি স্থানে ৫০ টাকা লিটার দরে ভ্রাম্যমাণভাবে দুধ বিক্রি করা হচ্ছে। তাতেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অন্যদিকে ছোট ছোট খামারিরা গরু বিক্রি করার জন্য হাটে হাটে ঘুরছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে আমার উপজেলার খামারিরা উৎপাদিত দুধ নিয়ে যাতে সমস্যায় না পড়েন সে কারণে আমি মিল্ক ভিটাসহ প্রাণ, আড়ং, এ্যাংকার, ঈগলু কোম্পানীদের সাথে কথা বলেছি। খামারিদের উৎপাদিত অবশিষ্ট দুধ বাজারে সঠিকভাবে বিক্রির জন্য ভ্রাম্যমাণ গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যেসব খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারছেন না, তারা এই ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে দুধ দিচ্ছেন। এই গাড়ি আমাদের প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন।

চিরিরবন্দরে দুধ নিয়ে বিপাকে গো-খামারিরা

প্রকাশের সময়: ০৬:১৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল ২০২১

‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গো-খামারিরা দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এমনিতেই গত বছর থেকে নানা সমস্যায় পড়েছেন গরুর খামারিরা। আর এখন প্রথম দফায় ৭দিনের পর দ্বিতীয় দফার এই সর্বাত্মক লকডাউনে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকেই এ শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি। গত বছর করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে ক্রমাগত গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সে অনুপাতে দুধের মূল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন খামারিরা।

এছাড়াও উচ্চমূল্যে কেনা অধিকাংশ গো-খাদ্যে রয়েছে ভেজাল। যা খাওয়ানোর পর নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু। চাহিদা মোতাবেক ডাক্তার না থাকায় রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত কমছে দুধের উৎপাদন। প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে গাভীগুলো। অনেক খামারি তাদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন গাভীগুলো রোগাক্রান্ত হওয়ায় স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় তারা চলতি বছর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন খামারিরা। খামারিরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সরকারের প্রণোদনা ঋণ নিতে গেলেও উল্টো হয়রানি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। এ কারণেই চরম হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছেন এখানকার সমবায় ভিত্তিক খামারিরা।

উপজেলা ডেইরী মিল্ক এসোসিয়েশনের সম্পাদক ও খামারি মো. আনিসুল হক বলেন, এই করোনার কারণে ভালো নেই আমাদের গো-খামারিরা। প্রতিদিন উপজেলার ছোট বড় প্রায় ১হাজার ১৮৭টি খামার থেকে বছরে ২১ হাজার ৩৩৩ মে.টন ও মাসে ১হাজার ৭৭৭ মে.টন লিটার দুধ উৎপাদন হয়। খামারের দুধ জেলার বিভিন্ন হোটেল ও মিষ্টির দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত ৯ দিন ধরে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল না করায় নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার অনেকে দাম না পেয়ে রাস্তায়ও ফেলে দিচ্ছে। বর্তমান করোনার জন্য ন্যায্য মূল্যে দুধ বিক্রি করতে পারছি না। গত বছরে যে লোকসান হয়েছে, এ বছরে তার চেয়েও বেশি লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি। আমরা হয়তো আর খামার চালাতে পারবো না। আপদকালীন সময়ে উপজেলার ৩টি স্থানে ৫০ টাকা লিটার দরে ভ্রাম্যমাণভাবে দুধ বিক্রি করা হচ্ছে। তাতেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অন্যদিকে ছোট ছোট খামারিরা গরু বিক্রি করার জন্য হাটে হাটে ঘুরছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে আমার উপজেলার খামারিরা উৎপাদিত দুধ নিয়ে যাতে সমস্যায় না পড়েন সে কারণে আমি মিল্ক ভিটাসহ প্রাণ, আড়ং, এ্যাংকার, ঈগলু কোম্পানীদের সাথে কথা বলেছি। খামারিদের উৎপাদিত অবশিষ্ট দুধ বাজারে সঠিকভাবে বিক্রির জন্য ভ্রাম্যমাণ গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যেসব খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারছেন না, তারা এই ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে দুধ দিচ্ছেন। এই গাড়ি আমাদের প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন।