সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ ঈদ, ঈদ মোবারক

আজ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। মুসলিম উম্মাহর খুশির দিন ঈদুল ফিতর আজ, ঈদ মোবারক। রমজানে মাসব্যাপী রোজা রাখার পর আজ খুশির জোয়ারে ভাসবেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। ঈদ উপলক্ষে আনন্দের ঢেউ বইছে প্রতিটি ঘরে।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মানব মনের সজীবতা ও কোমলতা অটুট রাখার মাধ্যম হচ্ছে এ ঈদ। তাই তো রমজানের রোজা শেষে খুশির উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর রমজানের রোজা পালন শেষে মুসলিম উম্মাহর জন্য সাম্যের বাণী নিয়ে উপস্থিত হয় ঈদুল ফিতর। ঈদের নামাজে একত্রিত হয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
সেখানে থাকে না কোনো ভেদ-বিদ্বেষ, উঁচু-নীচু। সবাই একই সমতল ভূমিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর সামনে প্রার্থনা করেন। কামনা করেন কল্যাণ ও শান্তির। যেখানে কোনো উঁচু-নিচু মান-মর্যাদার বালাই থাকে না। কেউ বাদ যায় না। কেউ পিছু হটে না। এ যেন সাম্যের এক অর্পূব দৃশ্যের অবতারণা হয় ঈদগাহে। তাই তো ঈদগাহ হয়ে ওঠে সামাজিক মিলনমেলার শ্রেষ্ঠ আসর।
এ ছাড়া মুসলিম সংস্কৃতির প্রধান উৎসব হচ্ছে ঈদ। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ঈদের এ আনন্দে একাকার হয়ে যায়। ঈদ উৎসবের মূল উপজীব্য হচ্ছে মানুষ। যে মানুষ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম ও কিয়ামের মাধ্যমে ধৈর্য, সংযম, মানবিক ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে পেরেছে। যে রোজাদার মুসলমান রমজান মাসব্যাপী সিয়াম পালনে কষ্ট করেছে, এ ঈদ এবং ঈদের আনন্দও রোজাদার মুসলমানের জন্য।
ঈদ হচ্ছে ইসলামি জীবন-দর্শনের সফলতার সম্মিলন। কারণ ঈদ উৎসবের মূলে রয়েছে আত্মার পরিশুদ্ধি এবং চরিত্রিক উন্নতি সুসংবাদ। আর এ উৎসবে মানুষে মানুষে ভালবাসা ভাগাভাগি করে নেয়। যে উৎসবে বিরাজ করে জান্নাতি পরিবেশ। তাই হিংসা-বিদ্বেষ, ভুলে গিয়ে ঈদ আনন্দ হোক মানবপ্রেমে ঝলসে ওঠার অনন্য অঙ্গীকার।
রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় মানুষের মন হয়ে ওঠে উদার, সহমর্মিতাপূর্ণ ও আল্লাহর প্রেমের প্রেমিক। রমজান মাসে যারা প্রবৃত্তির প্ররোচনাকে দমন করে বিবেকের শক্তিকে জাগ্রত করতে পেরেছেন, ঈদের দিন মহান আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। এজন্য রোজাদারদের জন্য ঈদের দিন এটি একটি বিরাট প্রাপ্তির দিন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদকে মুসলমানদের জাতীয় উৎসব হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক জাতির নিজস্ব উৎসব রয়েছে। আর এটি হচ্ছে (ঈদুল ফিতর) আমাদের উৎসব”। মানব মনের সজীবতা ও কোমলতা অটুট থাকার মাধ্যমই হচ্ছে এই ঈদ। তাই তো রমজানের রোজা শেষে খুশির উৎসব ঈদুল ফিতর।
ঈদের দিন সকল মুসলমান নতুন জামা-কাপড় পরে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-পশড়িদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সালাম, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে। কেউ কেউ ঈদের নামাজ পড়েই মৃত মা-বাবাসহ আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে হারানো মানুষদের স্মরণ করে।
আবার আমাদের সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীও যেন ঈদের আনন্দ থেকে বাদ না যায়, তারাও যেন এক চিলতে আনন্দ উৎসব করতে পারে- সেজন্য ইসলাম সাদকাতুল ফিতরের আবশ্যকীয়তা ঘোষণা করেছে। সমাজের বিত্তবান লোকেরা অভাবগ্রস্ত মানুষকে ফিতরা আদায় করবে। গরিব-দুঃখী ও অসহায়দের মাঝে ঈদের আনন্দের সুযোগ করে দেবে, এটাই ইসলামের বিধান। তবেই সমাজে পরিপূর্ণ ঈদের আমেজ আসবে, সমাজ হয়ে উঠবে আনন্দ মুখর। থাকবে না কোনো মলিন চেহারা। বইবে শান্তি সুবাতাস।
বছরে অন্তত ঈদের দিনে মানুষ সব ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণতা, তুচ্ছতা, হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরকে ভালোবাসে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক ঐক্য, সংহতি ও ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি হয়। আনন্দ উৎসবে প্রবাহিত হয় মানুষ হৃদয়, মন ও দেহে।
তবে গত বছরের মতো এবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা ম্লান করে দিয়েছে মহামারী করোনাভাইরাস। করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে এবারও খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না ঈদের জামাত। মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ। একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও মুসাফা করতে পারবেন না। দূর থেকে করতে হবে কুশল বিনিময়।
এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। ঈদের জামাত হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় ঈদের ৫টি জামাত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১১ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। ইমামতি করবেন এ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।
এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, এতে ইমামতি করবেন ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায় এ জামাতের ইমামতি করবেন মাওলানা এহসানুল হক, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায়, এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান।
এদিকে এবার ঈদ জামাত আয়োজনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, এবারের ঈদে আমাদের পক্ষ থেকে খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না। তবে সরকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদগুলোয় ঈদ জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এ বছর ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় খোলা মাঠে কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় ঈদ উপলক্ষে কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সবাইকেই মাস্ক পরতে হবে এবং নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
ঈদের দিনের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তির কামনাই হোক প্রতিটি মুমিন বান্দার কামনা। করোনামুক্ত হয়ে উঠুক এই ধরণী। পৃথিবীতে বিরাজ করুক জান্নাতি পরিবেশ। মানবজীবন হয়ে ওঠুক আনন্দময়। পরিশেষে একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা বিনিময়ে সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক…।

আজ ঈদ, ঈদ মোবারক

প্রকাশের সময়: ১২:১২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
আজ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। মুসলিম উম্মাহর খুশির দিন ঈদুল ফিতর আজ, ঈদ মোবারক। রমজানে মাসব্যাপী রোজা রাখার পর আজ খুশির জোয়ারে ভাসবেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। ঈদ উপলক্ষে আনন্দের ঢেউ বইছে প্রতিটি ঘরে।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মানব মনের সজীবতা ও কোমলতা অটুট রাখার মাধ্যম হচ্ছে এ ঈদ। তাই তো রমজানের রোজা শেষে খুশির উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর রমজানের রোজা পালন শেষে মুসলিম উম্মাহর জন্য সাম্যের বাণী নিয়ে উপস্থিত হয় ঈদুল ফিতর। ঈদের নামাজে একত্রিত হয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
সেখানে থাকে না কোনো ভেদ-বিদ্বেষ, উঁচু-নীচু। সবাই একই সমতল ভূমিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর সামনে প্রার্থনা করেন। কামনা করেন কল্যাণ ও শান্তির। যেখানে কোনো উঁচু-নিচু মান-মর্যাদার বালাই থাকে না। কেউ বাদ যায় না। কেউ পিছু হটে না। এ যেন সাম্যের এক অর্পূব দৃশ্যের অবতারণা হয় ঈদগাহে। তাই তো ঈদগাহ হয়ে ওঠে সামাজিক মিলনমেলার শ্রেষ্ঠ আসর।
এ ছাড়া মুসলিম সংস্কৃতির প্রধান উৎসব হচ্ছে ঈদ। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ঈদের এ আনন্দে একাকার হয়ে যায়। ঈদ উৎসবের মূল উপজীব্য হচ্ছে মানুষ। যে মানুষ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম ও কিয়ামের মাধ্যমে ধৈর্য, সংযম, মানবিক ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে পেরেছে। যে রোজাদার মুসলমান রমজান মাসব্যাপী সিয়াম পালনে কষ্ট করেছে, এ ঈদ এবং ঈদের আনন্দও রোজাদার মুসলমানের জন্য।
ঈদ হচ্ছে ইসলামি জীবন-দর্শনের সফলতার সম্মিলন। কারণ ঈদ উৎসবের মূলে রয়েছে আত্মার পরিশুদ্ধি এবং চরিত্রিক উন্নতি সুসংবাদ। আর এ উৎসবে মানুষে মানুষে ভালবাসা ভাগাভাগি করে নেয়। যে উৎসবে বিরাজ করে জান্নাতি পরিবেশ। তাই হিংসা-বিদ্বেষ, ভুলে গিয়ে ঈদ আনন্দ হোক মানবপ্রেমে ঝলসে ওঠার অনন্য অঙ্গীকার।
রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় মানুষের মন হয়ে ওঠে উদার, সহমর্মিতাপূর্ণ ও আল্লাহর প্রেমের প্রেমিক। রমজান মাসে যারা প্রবৃত্তির প্ররোচনাকে দমন করে বিবেকের শক্তিকে জাগ্রত করতে পেরেছেন, ঈদের দিন মহান আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। এজন্য রোজাদারদের জন্য ঈদের দিন এটি একটি বিরাট প্রাপ্তির দিন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদকে মুসলমানদের জাতীয় উৎসব হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক জাতির নিজস্ব উৎসব রয়েছে। আর এটি হচ্ছে (ঈদুল ফিতর) আমাদের উৎসব”। মানব মনের সজীবতা ও কোমলতা অটুট থাকার মাধ্যমই হচ্ছে এই ঈদ। তাই তো রমজানের রোজা শেষে খুশির উৎসব ঈদুল ফিতর।
ঈদের দিন সকল মুসলমান নতুন জামা-কাপড় পরে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-পশড়িদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সালাম, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে। কেউ কেউ ঈদের নামাজ পড়েই মৃত মা-বাবাসহ আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে হারানো মানুষদের স্মরণ করে।
আবার আমাদের সমাজের দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীও যেন ঈদের আনন্দ থেকে বাদ না যায়, তারাও যেন এক চিলতে আনন্দ উৎসব করতে পারে- সেজন্য ইসলাম সাদকাতুল ফিতরের আবশ্যকীয়তা ঘোষণা করেছে। সমাজের বিত্তবান লোকেরা অভাবগ্রস্ত মানুষকে ফিতরা আদায় করবে। গরিব-দুঃখী ও অসহায়দের মাঝে ঈদের আনন্দের সুযোগ করে দেবে, এটাই ইসলামের বিধান। তবেই সমাজে পরিপূর্ণ ঈদের আমেজ আসবে, সমাজ হয়ে উঠবে আনন্দ মুখর। থাকবে না কোনো মলিন চেহারা। বইবে শান্তি সুবাতাস।
বছরে অন্তত ঈদের দিনে মানুষ সব ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণতা, তুচ্ছতা, হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরকে ভালোবাসে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক ঐক্য, সংহতি ও ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি হয়। আনন্দ উৎসবে প্রবাহিত হয় মানুষ হৃদয়, মন ও দেহে।
তবে গত বছরের মতো এবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা ম্লান করে দিয়েছে মহামারী করোনাভাইরাস। করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে এবারও খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না ঈদের জামাত। মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ। একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও মুসাফা করতে পারবেন না। দূর থেকে করতে হবে কুশল বিনিময়।
এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। ঈদের জামাত হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় ঈদের ৫টি জামাত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১১ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। ইমামতি করবেন এ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।
এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, এতে ইমামতি করবেন ইমাম মুফতি মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায় এ জামাতের ইমামতি করবেন মাওলানা এহসানুল হক, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায়, এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান।
এদিকে এবার ঈদ জামাত আয়োজনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, এবারের ঈদে আমাদের পক্ষ থেকে খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না। তবে সরকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদগুলোয় ঈদ জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এ বছর ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় খোলা মাঠে কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় ঈদ উপলক্ষে কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সবাইকেই মাস্ক পরতে হবে এবং নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
ঈদের দিনের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তির কামনাই হোক প্রতিটি মুমিন বান্দার কামনা। করোনামুক্ত হয়ে উঠুক এই ধরণী। পৃথিবীতে বিরাজ করুক জান্নাতি পরিবেশ। মানবজীবন হয়ে ওঠুক আনন্দময়। পরিশেষে একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা বিনিময়ে সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক…।