আগাম আলু চাষের জন্য খ্যাত দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান কেটে মাঠের পর মাঠ গ্রানোলা, কারেজ, এস্টারিজ, ডায়মন্ড আলু রোপণ করছেন এখানকার কৃষকরা। উঁচু সমতল জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছরে ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জতিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত শুধু আগাম আলুই চাষ করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে আলু চাষের সম্ভবনা রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা, মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ, জমি প্রস্তÍত, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগসহ আলু রোপণ করছেন প্রান্তিক ও মাঝারি ধরনের চাষিরা। এ অঞ্চলে আগাম আলু রোপণকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে মাঠজুড়ে।
সরেজমিন দেখা গেছে, দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে মাঠে চলছে এখন আলু ক্ষেতে সেচ প্রদান ও কীটনাশক প্রয়োগের কাজ। আবার কোথাও কোথাও আলু চাষের জন্য চলছে জমি প্রস্তুতের কাজ। কেউবা জমি তৈরি করছেন, আবার কেউবা আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট আদর্শ গ্রামের আ. সালাম বলেন, গত বছর আগাম ধান কাটার পর ২৯ শতক জমিতে আলু উত্তোলন করে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। এজন্য এবছর আরো বেশি জমিতে ৫৫-৬০ দিনে উত্তোলনযোগ্য জাতের আলু রোপণ করেছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গতবারের চেয়ে ভালো ফলনের আশায় মনের আনন্দে আলু রোপণ করছি।
খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আ. সালাম শাহ্ ১০ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, যার আলু যত আগে উঠবে সেই কৃষক তত ভালো দাম পাবেন। তাই প্রতিযোগিতা করে সবাই টাকা-পয়সা ব্যয় করে লাভের আশায় আগাম জাতের আলু চাষে মাঠে কাজ করছি।
গোয়ালডিহি গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকার মাটি উঁচু এবং বালু মিশ্রিত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আগাম আলু চাষে তেমন কোনও ভয় থাকে না। ফলনও ভালো হয়। উৎপাদিত আলু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। অন্যান্য ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপক অবদান রাখে আগাম আলু চাষ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর বাজারে আলু বীজের দাম কম ও আবহাওয়া ভাল থাকায় আগাম জাতের আলু চাষ হচ্ছে। আমরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনায় কৃষকদের সর্বপ্রকার সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, এ উপজেলার মাটি আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপোযোগী। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের পর মাঠ আগাম আলু চাষে কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন কৃষক। প্রতিবছর এলাকার কৃষক আগাম আলু চাষ করে লাভবান হন। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবছরের আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও ভাল হবে বলে আশা করছেন তিনি। আমাদের কৃষি অফিস থেকে আগাম আলু চাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা করে থাকি। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 
















