নীলফামারীতে দাঁদন ব্যবসায়ীর দাপটে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ১০টি পরিবারের ভুক্তভোগী লোকজন। এদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কৃষক ও কর্মহীন শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সাধারন মানুষ। কেউ দুই বছর আবার কেউ এক বছর আগে ব্যাংক চেক ও ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর করে ৫ পাঁচ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাওলাদ স্বরুপ নেয়।
কয়েক মাসের মধ্যে লাভের টাকাসহ আসল টাকা পরিশোধ করলেও দিচ্ছেনা তাদের ফাঁকা স্টাম্প এবং চেকের পাতা। এসব টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে স্বয়সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে অনেকে। মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে ডোমার উপজেলা হরিণচড়া ইউনিয়নের হংসরাজ পাড়ার জগন্নাথ চন্দ্র রায়ের ছেলে দাঁদন ব্যবসায়ী হিরম্ভ কুমার রায় ও তার ছেলে বাপ্পী রায়ের বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে দাঁদন ব্যবসায়ী হিরম্ভ কুমার রায় ও তার ছেলে বাপ্পী রায়ের ভয়ে পালাক্রমে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ডোমার উপজেলার গোমনাতীর মৃত. জিতেন্দ্রনাথের ছেলে মৌজা গোমনাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজ কুমার রায়, তরনীবাড়ী সীমান্তপাড়ার রমেশ চন্দ্রের ছেলে কৃষিজীবি তৈলক্ষ চন্দ্র, পশ্চিম সোনারায়ের নুর আলমের ছেলে জামির বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম, দক্ষিন আমবাড়ীর ধনেশ^র রায়ের ছেলে গোমনাতী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শক্তিনাথ রায় ও গোমনাতীর তরনী কান্ত রায়ের ছেলে সহকারী শিক্ষক ধীরেন চন্দ্র রায়। শনিবার (১১-ডিসেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী রাজ কুমার রায়ের নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁরা। এছাড়াও টাকা পরিশোধ করা সর্তেও মিথ্যা মামলা, উকিল নোটিশ ও প্রাণনাশের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ডোমার উপজেলার উত্তর তরনীবাড়ী সীমান্তপাড়ার মহেশ ঋষির ছেলে ঢুলিয়া তপন ঋষি ও হরিণচড়া ইউনিয়নের হংসরাজ পাড়ার নরেন রায়ের ছেলে পাথর ভাঙ্গা শ্রমিক জয়ন্ত রায়সহ অনেকে। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, টাকা পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদী ফিরত না দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাটিয়ে মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে।
প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদী ফিরতসহ দাদন ব্যবসায়ী হিরম্ভ রায় ও তার ছেলে বাপ্পী রায়ের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তুলেন তারা। দাঁদন ব্যবসায়ী হিরম্ভ কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি তাদেরকে হাওলাদ হিসেবে টাকা দিয়েছি। সময়মত টাকা দিতে না পারায় তাদেরকে উকিল নোটিশ দিয়েছি এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। আমি কাউকে কোন প্রকার হুমকী-ধামকী দেইনি। সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে তিনি জানান।
সাগর চন্দ্র রায়, রেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, নীলফামারী 
















