গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ফসলের ওপর নির্বভশীল। মাঠপর্যায়ের উঁচু ভূমিতে ফলানো হয় শাক-সবজি আর নিচুতে হয় ধান-পাটসহ নানা জাতের ফসল। ইতোমধ্যে এসব জমিতে থেকে তোলা হচ্ছে উর্বর মাটি। ট্রাক্টর যোগে এই মাটিগুলো নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ফলে ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া ও উর্বরতা হারানোসহ কৃষকদের ফসল উৎপাদন কমার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে আবাদি কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করছে ইটভাটা মালিকরা। এতে জমির মালিকরা সাময়িকভাবে আর্থিক লাভবান হলেও রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক বনে যাচ্ছেন কিছু আসাধু মাটি খেকো ইটভাটা ব্যবসায়ী। আর সামান্য টাকার লোভে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওইসব কৃষক। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।
গাইবান্ধার প্রত্যেকটি উপজেলায় কিছু স্বার্থন্বেশী লোকজন অবাধে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বেকু দিয়ে কাটছে আর কাঁকড়া বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে সেই মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে গ্রামীণ রাস্তা যেমন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, ইট তৈরির মৌসুম এলেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই এলাকায় একাধিক বেকু মেশিন বসিয়ে আবাদি জমির উপরের মাটি ট্রাক্টর দিয়ে অবাধে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। সারাদিন ভটভটানি শব্দে এবং ধুলাবালিতে বসবাস করাই মুশকিল হয়ে পরেছে। রাস্তা এত ভঙ্গুর করে ফেলেছে যে, এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের আর কোন সুযোগ নেই। দু-দিন আগে রাস্তায় বাঁশ পুতে এলাকাবাসী ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু তারা প্রভাবশালী ভাটার মালিক এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান হওয়ায় আবারও জোরপূর্বক মাটি কাটা শুরু করেছে।
জানা যায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ইটভাটা পরিচালনা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, হালনাগাদ ইট পোড়ানোর লাইসেন্স, পরিবেশ বান্ধব (জিগজ্যাক) চিমনি, কয়লা পোড়ানো এবং আয়কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া ট্যাক্স, ভ্যাট পরিশোধের সনদপত্র, আপত্তি নেই মর্মে সংশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সনদপত্র, ভূমি কর পরিশোধের রশিদ ও জমির মালিকানা অথবা ভাড়ার চুক্তিপত্র জেলা প্রশাসক অফিসে দাখিল করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সব নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে প্রতিবছর যে পরিমাণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার কোন পরিসংখ্যান জানা নেই সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের। তাছাড়া কৃষি জমি রক্ষায় কোন পদক্ষেপ তো দুরের কথা, এ ব্যাপারে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পুরোপুরি উদাসীন।
নাম প্রকাশে না করা শর্তে এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কোন আবাদি জমির উৎপাদন শক্তি জমা থাকে মাটির প্রথম দুই ফুটের মধ্যে। এই অংশেই ফসল বেড়ে ওঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে এবং এই অংশ থেকেই প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। কিন্তু সেই উপরের মাটি কেটে নিলে মৃত্তিকা (মাটি) প্রাণ হারায় আর জমি হারায় তার উর্বরতা। ফলে কয়েক বছর পর্যন্ত জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফসল ফলে না। এতে কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। আর খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 


















