জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেছেন, আমাদের উচিত হবে কারিগরের মতো কাজ করা। আমাদের কাজের ক্ষেত্রটিকে উর্বর হিসেবে ধরে নিয়ে ফসল ফলানো। তাহলেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব। আর সে জন্য বস্তুসোনা নয় কর্মসোনা দিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, আমাদের দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। একটি শিল্পোন্নত দেশ গড়ে তুলতে হলে ৭২-এর যে চারটি মূলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদ- এগুলোকে আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনবন্ধু জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কর্মমুখী শিক্ষাকে জোর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ৭ মার্চের ভাষণটি ২০১৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতির পর ভাষণটির প্রচার বিশ^ব্যাপী বেড়ে গেছে। তবে এই সম্মানই যথেষ্ঠ নয়। কারণ তার অনেক আগে থেকেই ৭মার্চের ভাষণ শাশ^ত। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি সেই শাশ^তের অনুষঙ্গ মাত্র। গুলি ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ সেই ভাষণ শোনার জন্য দলে দলে যেভাবে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জমা হয়েছিলেন তার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল।
সভার মুখ্য আলোচক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কী চাইতেন, তার রাজনৈতিক ভাবনা কী ছিল সাত মার্চের ভাষণ ও তার পটভ‚মির ইতিহাস ঘাঁটলেই আমরা দেখতে পাব। সেই ৪৭ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার চিন্তাটা করেছিলেন।
তিনি বলেন, ছয়দফা বাঙালির মহামুক্তির সনদ। স্বাধীনতার কোনও কথা ওখানে বাদ নেই। ৬দফার কথা যখনই বলবেন তখন ১১ দফার কথাও বলবেন। কেননা এই দুইদফা নিয়ে একইসঙ্গে আন্দোলন হয়েছে। ছাত্র জনতা যে যুগৎপত আন্দোলন করেছিলেন তাতে পাকিস্তানি শাসকের ভীত কেঁপে গিয়েছিল। বাংলার দামাল ছেলেরা বলেছিল জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব। সত্যিই সেটা হয়েছিল। ভীত কেঁপে গেছে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা হিসেবে বঙ্গমাতার ভ‚মিকার কথা তুলে ধরে সাবেক গভর্নর বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যখন কারাগার থেকে প্যারোলে যাওয়ার কথা প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তখন অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুকে বললেন প্যারোলে যান আপনি। একমাত্র বঙ্গমাতা নিজে জেলে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘শোন সারাদেশ কিন্তু আগুনে জ¦লছে। তোমার পেছনে কিন্তু সব মানুষ। দৃঢ় হয়ে বসে থাকো। তারা (পাকিস্তানিরা) অবশ্যই তোমাকে সসম্মানে মুক্তি দিবে।’ সেটাই হয়েছিল।
জাতির পিতা, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যারা বিকৃতি ঘটায় তাদের উদ্দেশ্যে ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ইতিহাসকে সত্যভাবে তুলে ধরতে হবে। তাহলেই সেই ইতিহাস ধ্রব্রতারার মতো জ¦লবে। যারা ইতিহাসের বিকৃতি করে তারা নির্বোধ, অর্বাচীন।
আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সুজন আলী, বঙ্গবন্ধু নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান ও কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. জোবায়ের হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক রাগীব রহমান।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল সাতটা থেকে ক্যাম্পাসের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য পাদদেশে ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়। সকাল ১০টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার জাতির পিতার ভাস্কর্যে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যারয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদুল বারী, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সুজন আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. তুহিনুর রহমান, বঙ্গবন্ধু নীল দলের সভাপতি ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, সাধারণ সম্পাদক ড. সেলিম আল মামুন, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী জোবায়ের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিম, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবসহ অন্যান্যরা। এসময় বিশ^বিদ্যালয়ের ডিন, হল প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু নীল দল, কর্মকর্তা পরিষদ, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, নজরুল বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট 















