রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের উত্তর পলাশবাড়ী আমিরন-সিরাজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রনণ নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ৩ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে। ফলে প্রাচীন এ বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে উপজেলার উত্তর পলাশবাড়ী এএসএম উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দীর্ঘদিনের। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূরীকরণে শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতর বিদ্যালয়টির একতলা একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে নির্মাণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজের টেন্ডার করে দিনাজপুর শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতর। গত ২০১৮ সালে ২৮ অক্টোবর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ২০১৯ সালে প্রথমদিকে বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজটি শুরু হয়। কাজটি করছেন দিনাজপুরের কাঞ্চন কলোনীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মো. সালাউদ্দিন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথারীতি নির্মাণ কাজও শুরু করে। ইতিমধ্যে ওয়াশবøকসহ তিন কক্ষের দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। টেন্ডার সিডিউলে নির্মাণ কাজ শুরুর ৯ মাসের মধ্যে বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল। কিন্তু অদ্যাবধি তা শেষ হয়নি। নির্মাণ কাজ ধীরগতি হওয়ার কারণে কক্ষগুলোর বৈদ্যুতিক ও পানির লাইনের কাজ, স্যানিটেশন, টাইলস্, দরজা-জালানা ও রঙ-চুনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত মাত্র ২ জন টাইলস্ মিস্ত্রি ওয়াশবøকে টাইলস্ বসানোর কাজ করছে।

উত্তর পলাশবাড়ী এএসএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন পারভেজ আখতার বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসে পাঠদান করাতে হচ্ছে। বর্তমানে জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র গরমে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করছে। এছাড়াও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণ কাজের মালামাল রেখে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে দখল করে রেখেছে। আমি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে দিনাজপুর শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে চিঠি দিয়েছি। এছাড়াও মৌখিকভাবে শিক্ষাপ্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে নির্মাণ কাজটি দ্রæত শেষ করতে মুঠোফোনে অনেক কয়েকবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু তারা সেটির কর্ণপাত করছেন না। এমনকি এখন তারা (নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদার) কেউই আমার মুঠোফোন রিসিভ করছেন না। ফলে তাদের সঙ্গে আমি কোন রকম যোগাযোগ করতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজ শেষ করা নিয়ে চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দিনাজপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদার মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কেউই মুঠোফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

চিরিরবন্দরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজ

প্রকাশের সময়: ০৮:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের উত্তর পলাশবাড়ী আমিরন-সিরাজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রনণ নির্মাণ কাজ দীর্ঘ ৩ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে। ফলে প্রাচীন এ বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে উপজেলার উত্তর পলাশবাড়ী এএসএম উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দীর্ঘদিনের। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূরীকরণে শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতর বিদ্যালয়টির একতলা একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে নির্মাণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজের টেন্ডার করে দিনাজপুর শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতর। গত ২০১৮ সালে ২৮ অক্টোবর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ২০১৯ সালে প্রথমদিকে বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজটি শুরু হয়। কাজটি করছেন দিনাজপুরের কাঞ্চন কলোনীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মো. সালাউদ্দিন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথারীতি নির্মাণ কাজও শুরু করে। ইতিমধ্যে ওয়াশবøকসহ তিন কক্ষের দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। টেন্ডার সিডিউলে নির্মাণ কাজ শুরুর ৯ মাসের মধ্যে বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল। কিন্তু অদ্যাবধি তা শেষ হয়নি। নির্মাণ কাজ ধীরগতি হওয়ার কারণে কক্ষগুলোর বৈদ্যুতিক ও পানির লাইনের কাজ, স্যানিটেশন, টাইলস্, দরজা-জালানা ও রঙ-চুনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত মাত্র ২ জন টাইলস্ মিস্ত্রি ওয়াশবøকে টাইলস্ বসানোর কাজ করছে।

উত্তর পলাশবাড়ী এএসএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন পারভেজ আখতার বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসে পাঠদান করাতে হচ্ছে। বর্তমানে জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র গরমে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করছে। এছাড়াও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণ কাজের মালামাল রেখে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে দখল করে রেখেছে। আমি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে দিনাজপুর শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে চিঠি দিয়েছি। এছাড়াও মৌখিকভাবে শিক্ষাপ্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে নির্মাণ কাজটি দ্রæত শেষ করতে মুঠোফোনে অনেক কয়েকবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু তারা সেটির কর্ণপাত করছেন না। এমনকি এখন তারা (নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদার) কেউই আমার মুঠোফোন রিসিভ করছেন না। ফলে তাদের সঙ্গে আমি কোন রকম যোগাযোগ করতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজ শেষ করা নিয়ে চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দিনাজপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদার মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা কেউই মুঠোফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।