শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ: অবশেষে গৃহহীন আমেনা পাচ্ছেন সরকারি ঘর

‘কেউ কথা রাখেনি গৃহহীন আমেনার’ শিরোনামে সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এ সংবাদটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নজরে পড়ে। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমেনা বেগমকে সরকারি ঘর বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে শনিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব আমেনা বেগমের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওই সংবাদটির প্রতিবেদক তোফায়েল হোসেন জাকির ও সাংবাদিক শামীম সরদার প্রমূখ।


রোববার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে ঘর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হবে বলে সুবিধাভোগি পরিবার ও স্থানীয়দের জানান সাহারিয়া খান বিপ্লব। এসময় আমেনা বেগমের চোখে মুখে দেখা গেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ছাপ।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক আমেনা বেগমের ঘর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। সেটি সম্ভবত রোববারে উদ্বোধন করা হবে।


উল্লেখ্য, সত্তোরোর্ধ বয়সের আমেনা বেগম। স্বামী সৈয়দ আলী বয়সের ভারে ন্যুব্জে পড়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র সন্তান রাজ্জাক মিয়া। সেও মানসিক প্রতিবন্ধী। বসবাসের জন্য পলিথিন আর খড়ের বেড়া দিয়ে তুলেছে একটি ছাপড়া ঘর। জরাজীর্ণ এ ঘরে স্বামী-সন্তানের বসবাস। আকাশের মেঘ দেখলে আতঙ্ক বিরাজ করে তাদের মনে। একটু ঝড়-বৃষ্টি আসলেই দৌড় দিতে হয় অন্যের বাড়িতে। এছাড়া রান্না ঘর, টিউবয়েল-টয়লেটেও নেই তাদের। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। যেনো অন্ধকার ভুতড়ে বসবাস। খোলা আকাশের নিচে রান্নাবান্না সারতে হয় আমেনাকে। প্রতিবন্ধী ছেলে রাজ্জাক মিয়া ভবঘুরে। স্বামী সৈয়দ আলীর শরীরেও নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। একই অবস্থা আমেনা বেগমেরও। তবুও পেটের তাগিতে ছুটতে হয় মানুষের দুয়ারে। দিনশেষে যেটুকু রোজগার হয়, তা দিয়ে পেট পুড়ে খেতে হয়। স্বামী-স্ত্রী সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। কারণ একটাই, ভাঙাচুরা ঘর। কখন দুর্যোগ উঠে এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পলিথিন ঘরে বসবাস করে আসছে আমেনার পরিবারটি।

জনপ্রিয়

ফলোআপ: অবশেষে গৃহহীন আমেনা পাচ্ছেন সরকারি ঘর

প্রকাশের সময়: ০৬:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২১

‘কেউ কথা রাখেনি গৃহহীন আমেনার’ শিরোনামে সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এ সংবাদটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নজরে পড়ে। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমেনা বেগমকে সরকারি ঘর বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে শনিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব আমেনা বেগমের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওই সংবাদটির প্রতিবেদক তোফায়েল হোসেন জাকির ও সাংবাদিক শামীম সরদার প্রমূখ।


রোববার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে ঘর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হবে বলে সুবিধাভোগি পরিবার ও স্থানীয়দের জানান সাহারিয়া খান বিপ্লব। এসময় আমেনা বেগমের চোখে মুখে দেখা গেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ছাপ।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক আমেনা বেগমের ঘর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। সেটি সম্ভবত রোববারে উদ্বোধন করা হবে।


উল্লেখ্য, সত্তোরোর্ধ বয়সের আমেনা বেগম। স্বামী সৈয়দ আলী বয়সের ভারে ন্যুব্জে পড়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র সন্তান রাজ্জাক মিয়া। সেও মানসিক প্রতিবন্ধী। বসবাসের জন্য পলিথিন আর খড়ের বেড়া দিয়ে তুলেছে একটি ছাপড়া ঘর। জরাজীর্ণ এ ঘরে স্বামী-সন্তানের বসবাস। আকাশের মেঘ দেখলে আতঙ্ক বিরাজ করে তাদের মনে। একটু ঝড়-বৃষ্টি আসলেই দৌড় দিতে হয় অন্যের বাড়িতে। এছাড়া রান্না ঘর, টিউবয়েল-টয়লেটেও নেই তাদের। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। যেনো অন্ধকার ভুতড়ে বসবাস। খোলা আকাশের নিচে রান্নাবান্না সারতে হয় আমেনাকে। প্রতিবন্ধী ছেলে রাজ্জাক মিয়া ভবঘুরে। স্বামী সৈয়দ আলীর শরীরেও নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। একই অবস্থা আমেনা বেগমেরও। তবুও পেটের তাগিতে ছুটতে হয় মানুষের দুয়ারে। দিনশেষে যেটুকু রোজগার হয়, তা দিয়ে পেট পুড়ে খেতে হয়। স্বামী-স্ত্রী সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। কারণ একটাই, ভাঙাচুরা ঘর। কখন দুর্যোগ উঠে এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পলিথিন ঘরে বসবাস করে আসছে আমেনার পরিবারটি।