রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

কলেজ শিক্ষিকার মৃত্যু ঘিরে ভার্চুয়াল জগতে নানা প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২

কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় নাটোরের কলেজ শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর প্রেম, পরবর্তীতে বিয়ের খবর। খায়রুন নাহার ও মো. মামুন হোসেন দম্পতি আবারও ঝড় তুলেছেন ভার্চুয়াল জগতে। তবে এবারের খবরটি সুখকর নয়। কারণ মাত্র আট মাস আগে ফেসবুকে প্রেম থেকে গোপনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও রোববার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এই কলেজ শিক্ষিকার।

মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয় মৃত্যুর খবর। এবারও ফেসবুকে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন।

অনেকের সন্দেহ শিক্ষিকার বর মো. মামুন হোসেনের দিকে। কেউ আবার দুষছেন গণমাধ্যমকে।

যদিও শিক্ষিকার স্বজনদের অভিযোগ, মামুন নেশাগ্রস্ত ছিলেন। প্রায়ই খায়রুন নাহারকে মারধর করতেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, কলেজ শিক্ষিকার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করবেন।

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান নাটোরের কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহার ও কলেজ শিক্ষার্থী মো. মামুন হোসেন। পরে গোপনে সেরে ফেলেন বিয়ে। সেই বিয়ের ছয়মাস পর জানাজানি হয় কলেজ ছাত্র মামুন ও নাটোরের কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহার দম্পতির কথা। বেশ ভালোই চলছিলো তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ নেমে এলো দুঃসংবাদ। বিয়ের আট মাস পার হতে না হতেই নিভে গেল এই শিক্ষিকার জীবন প্রদীপ।

যদিও বিয়ের কিছুদিন পর ছেলের পরিবার তাদের মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। তবে শিক্ষিকার মৃত্যুর পর তার বোনের ছেলেসহ বেশ কয়েকজন স্বজন নাটোরের ভাড়া বাসায় এসেছেন বলে প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকায় এক ভাড়া বাসা থেকে খায়রুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ।

প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নাটোরের গুরুদাসপুরে মো. মামুন হোসেন (২২) নামে এই কলেজছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে বিয়ে করেন গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহার।

তার স্বামী মামুন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

শুরুতে চুপচাপ থাকলেও হঠাৎ গত ৩১ জুলাই তাদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হয়। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিয়ের খবরটি ভাইরাল হয়। এতে সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

অবশ্য তাদের দুজনই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ভালোবাসা থেকে সংসার জীবনে এসে তারা বেশ ভালোই আছেন। আমৃত্যু এভাবেই তারা থাকতে চান এমনটিও বলেছেন।

কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যে হঠাৎ কলেজ শিক্ষিকার মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন সবার মনে। যদিও এখনো কোনো কিছু খুঁজে পায়নি পুলিশ।

মুহিব্বুল্লাহ মুহিব ফেসবুকে লিখেছেন, বিশ্বাস করুন, আমি এই দম্পতি নিয়ে একটুও বিদ্রুপ করিনি। ট্রল করিনি তাদের নিয়ে। এদের নিয়ে করা নিউজ কন্টেন্ট-এ কোনো নেগেটিভ মন্তব্যও করিনি। শুধু মন খারাপ করেছিলাম, সামাজিক মাধ্যমে মানসিক বিকারগস্তদের উস্কানিমূলক ও বাজে মন্তব্যে।

তিনি আরও লেখেন, তখনই মনে করে হয়েছিল, হয়তো কোনো দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে, অমাবস্যার ঘন কালো অন্ধকার ধেয়ে আসছে এই দম্পতির জীবনে। মাত্র কয়দিনের ব্যবধানে তাই হয়েছে। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হবে কবে?

কামরুজ্জামান বাবলু ফেসবুকে লিখেছেন, আত্মহত্যা করেছেন ছাত্রকে বিয়ে করা নাটোরের সেই কলেজ শিক্ষিকা। অসম বা অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।

মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মনে করেন এটা একটা নতুন ইস্যু। ফেসবুকে তাই লিখেছেন, অপেক্ষা করতেছিলাম একটা নতুন ইস্যুর জন্য। একটি তথাকথিত সুইসাইড (আমরা নিশ্চিত না, আসলেই সুইসাইড কিনা) ভুলিয়ে দেবে দোযখ-বেহেশত, তেল, মুরগি, ডিম, শ্রীলঙ্কা, মুদ্রাস্ফীতি, দেউলিয়াত্ব সবকিছু! আমরা আসলেই সুখে আছি।

জাহিদ হাসান নামে একজন লিখেছেন, নাটোরের গুরুদাসপুরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার মৃত্যুর দায় কি গণমাধ্যম নেবে? যারা ফেসবুকে যা খুশি লিখেছেন, তারাও কি নেবেন তার এই মৃত্যুর দায়। মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতায় চরম আক্রমণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল করার চরম বাজে পরিণতির শিকার হলেন কলেজ শিক্ষিকা।

নূর হোসাইন মিলন লিখেছেন, প্রচুর পানির নুনে পঁচে গেছে মানুষের হৃদয়। নির্বাচিত নরকের খাদ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা ট্রল করেছে তারাই এখন মানবতার ঝুড়ি নিয়ে সমবেদনা জানাতে শুরু করেছে।

এই ঘটনায় সমাজেরও দায় দেখছেন হিমেল মাহবুব। তিনি লিখেছেন, শিক্ষিকা যদি আত্মহত্যাও করে থাকেন তবে সমাজ এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কে কারে বিয়ে করল এ নিয়ে মন্তব্য করার আমি আপনি কে?’

সুত্রঃ ঢাকামেইল.কম

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন